কাশ্মীরে শান্তিতে বাধা সৃষ্টিকারীদের কারাগারে পাঠানো হবে: রাম মাধব
-
রাম মাধব
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেছেন, কাশ্মীরে শান্তিতে বাধা সৃষ্টিকারীদের কারাগারে পাঠানো হবে। গতকাল (রোববার) শ্রীনগরে দলীয় যুব শাখার সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
রাম মাধব বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের জন্য এখন কেবল দু’টি পথ থাকবে। শান্তি ও উন্নয়ন। এর মাঝখানে যে আসবে তাকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। তাদের জন্য ভারতে অনেক কারাগার রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পরে জম্মু-কাশ্মীর শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। যে কেউ তার পথে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে তার বিরুদ্ধে কঠোরতার সাথে মোকাবেলা করা হবে।’
রাম মাধবের দাবি, ‘এ পর্যন্ত কাশ্মীরের কেবল কয়েকটি পরিবার বা কিছু নেতার জন্য কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এখন যা ঘটছে তা এই রাজ্যের কয়েক লাখ পরিবারের জন্য, সাধারণ কাশ্মীরিদের জন্য হচ্ছে।’
রাম মাধব বলেন, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য যদি ২০০/৩০০ জনকে কারাগারে রাখতে হয়, তবে আমরা তাদের রাখব। তিনি বলেন, 'আপনি শান্তি বিঘ্নিত না করেও রাজনীতি করতে পারেন। কিছু নেতা কারাগারে বসে বার্তা পাঠাচ্ছেন যে লোকেরা বন্দুক হাতে তুলে নিয়ে শহীদ হবে। আমি সেই নেতাদের বলতে চাই যে সবার আগে তিনি নিজে এগিয়ে এসে শাহাদাতবরণ করুন।’
তিনি বলেন, ‘এখানে নেতারা এতদিন সাধারণ মানুষকে তাদের রাজনীতির জন্য ব্যবহার করছিলেন এবং সাধারণ জনগণকে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এখন আমরা এ ধরণের রাজনীতি করতে দেবো না। আমরা চাই উন্নয়নের রাজনীতি। এখান থেকে দুর্নীতির রাজনীতি সম্পূর্ণ নির্মূল হবে।’
কাশ্মীরের জনগণ তাদের চাকরি বা জমি হারানোর আশঙ্কা প্রসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে রাম মাধব বলেন, এখানে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। ‘জম্মু-কাশ্মীরের পরিচয়, সংস্কৃতি, চাকরি ও শিক্ষার যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সেজন্য সব ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করা হবে’ বলেও বিজেপি’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ওদের এসমস্ত কথাবার্তা নতুন কিছু নয়। আমরা এটা আগেই বলেছি যে, ওরা ভয় দেখাচ্ছে মানে নিজেরাই ভয় পেয়েছে। কাশ্মীরের উন্নয়নের এমনই চেহারা যে সেটা ভারতের অন্য কারও আর দেখার অধিকার নেই। এমন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে কাশ্মীরে যে কী উন্নয়ন যজ্ঞ চলছে তা দেখার মতো লোক ভারতে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। রাম মাধব নিজে দেখে এসে নিশ্চয়ই সেটা বলছেন ! আর আমরা যারা মানবাধিকার কর্মী দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে, কাশ্মীর হচ্ছে একটা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় খোলা কারাগার। এটা যখন স্বাভাবিক থাকে তখনও, যখন অস্বাভাবিক থাকে তখনও। ফলে কারাগারের ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
ভানু সরকার বলেন, এর আগে বহু লোককে গ্রেফতার করেছে, কাশ্মীরে গ্রেফতার করেছে, গোটা ভারতে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু কোনোদিনই গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা যায়নি। ওরা যেভাবে শুরু করেছিল, এখন মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে কাশ্মীরে এমন কী হচ্ছে যে সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ। এতদিন ধরে কেন বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ। ওদের ‘ফেক’ কথাবার্তার মধ্যে কোনও যুক্তি নেই।' এভাবে ভারতের মানুষদের ভয় দেখানো যাবে না বলেও ভানু সরকার মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।