মুখ বন্ধ রাখার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পাচ্ছেন কাশ্মীরি নেতারা
-
গ্রেফতারের আগে কাশ্মীরের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেহবুবা মুফতির বাড়িতে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন
জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করাকে কেন্দ্র করে সেখানকার যেসব নেতা-নেত্রীকে আটক অথবা গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাদেরকে একবছর মুখ বন্ধ রাখার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে দিয়ে রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত দু’টি অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। এরপরে সেখানে বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ধরপাকড় ও রাজ্যের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ ও ওমর আব্দুল্লাহসহ অনেক নেতাকে গৃহবন্দি অথবা আটক করে রাখা হয়েছে।
এদিকে, আটক নেতাদের এবার নির্দিষ্ট বয়ানে মুচলেকা ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দিলে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুচলেকার বয়ানে বলতে হচ্ছে, ‘এক বছরের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে আমি কোনও বিবৃতি প্রকাশ করব না, কোনও সভা-জমায়েতে বক্তব্য পেশ করব না এবং কোনও র্যালি-মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করব না। কারণ, তা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।’
মুচলেকার অন্যতম শর্ত, ১০ হাজার টাকা অগ্রিম হিসেবে জমা দিতে হবে এবং কোনও শর্ত ভঙ্গ হলে আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে।
৩৭০ ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে এবং সেখানকার অবরুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ১৫ অক্টোবর নারীদের এক প্রতিবাদ-বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহর বোন সুরাইয়া এবং মেয়ে সাফিয়া আব্দুল্লাহ খান। তাঁরা এসময় এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কাশ্মীরের নারীরা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা অপসারণের একতরফা সিদ্ধান্ত ও রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ তাঁরা অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দেয়াসহ গ্রামীণ ও শহর এলাকাকে অসামরিকীকরণের দাবিও জানান।
ওই ঘটনায় পুলিশ সে সময় সুরাইয়া ও সাফিয়াসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের মুক্তির শর্ত হিসেবেও উল্লেখিত ওই মুচলেকায় সই করানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মৌখিকভাবেও তাঁরা উপত্যকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।
ওই ঘটনায় বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাশ্মীরের বেশ কিছু সংগঠনও এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে।
'কাশ্মীরে মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে'
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দেওয়ান আব্দুল গণি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সমাজকর্মী ড. মুহাম্মাদ ইসমাইল আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আসলে স্বাধীনতার পরবর্তীতে আমাদের দেশে যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা নানাভাবে কাশ্মীরিদের অধিকার হরণ করেছে। কাশ্মীরিদের সঙ্গে যেসব চুক্তি ছিল তা খর্ব করেছে এবং বর্তমানে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে আমরা দেখতে পাচ্ছি কাশ্মীর সেনাবাহিনীর দখলে। স্বাধীন ভারতের স্বাধীন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে কাশ্মীরিরা নানাভাবে বঞ্চিত। লঙ্ঘিত সেখানে মানবতা।’
তিনি বলেন, ‘শিশু ও প্রবীণ নাগরিকরা সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কারফিউ জারি থাকায় খাদ্যের অভাবে অসুস্থ। গর্ভবতী নারী ও অসুস্থরা দেখতে পাচ্ছি গৃহবন্দি। তল্লাশির নাম করে নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতা-নেত্রীদেরকে। নির্বাচিত নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা সরকারের অন্যায়, অত্যাচার ও অমানবিক আক্রমণের বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে রুখে না দাঁড়াতে পারেন। সেজন্য পুরোপুরিভাবে আমরা বলতে পারি যে সরকার ভীত। দেশবাসীর থেকে আড়াল করতে চাচ্ছে সরকারি জুলুম ও বর্তমান প্রেক্ষাপট। আজ সংবিধান, মানবাধিকার যাই বলুন না কেন, সম্পূর্ণভাবে মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’
অবিলম্বে এসবের অবসানের মধ্য দিয়ে সেখানকার জনজীবন স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন বলেও ড. মুহাম্মাদ ইসমাইল মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।