করোনাভাইরাস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারের কাছে জবাব চাইল হাইকোর্ট
ভারতে করোনাভাইরাস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারের কাছে জবাব চাইল দিল্লি হাইকোর্ট। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা চেয়ে জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে আজ (বুধবার) দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে।
আইনজীবী ত্রিবেণী পোটেকারের দায়ের করা আবেদনে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সুবিধা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এরপরেই আজ দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিএন প্যাটেল এবং বিচারপতি সি হরিশঙ্করের সমন্বিত বেঞ্চ ওই আবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দিল্লি সরকারকে নোটিশ দিয়েছে।
এরআগে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টে আইনজীবি শশাঙ্ক ত্রিপাঠির এক জনস্বার্থ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে ১৭ মার্চের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থ আবেদনে হাইকোর্ট চত্বরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা ব্যক্ত করে তা প্রতিরোধের দাবি জানানোসহ থার্মাল স্ক্যান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবী শশাঙ্ক ত্রিপাঠি বলেন, বিভিন্ন মামলার সূত্রে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ হাইকোর্টে এসে থাকেন সেজন্য এখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে। যদি হাইকোর্টে সংক্রমণ ছড়িয়ে পরে তাহলে হাইকোর্ট বন্ধ রাখতে হবে এবং এরফলে বিভিন্ন মামলার শুনানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এরপরে হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এপর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তার জবাব চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশের সোনভদ্র জেলায় আগামী ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে। সেখানে তাঁর নবনির্মিত বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাস উদ্বোধন করার কথা ছিল।
জম্মু-কাশ্মীরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিনেমা হল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার জম্মু’র (জম্মু, সাম্বা, কাঠুয়া, রইসি এবং উধমপুর) ৫ টি জেলার জন্য ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় স্কুল, সিনেমা হল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
একইভাবে কেরালা ও রাজস্তানে অধিকাংশ বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। সংক্রমণ রুখতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সিনেমা হলও। এদিকে, বিদেশ থেকে ফেরা বহু নাগরিক তাঁদের ভ্রমণ বৃত্তান্ত গোপন রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আইনত অপরাধ উল্লেখ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেরালা সরকার।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ ভারতে এপর্যন্ত ৬৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ভারতে কমপক্ষে ১৪ হাজার ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।