করোনা ইস্যুতে কোলকাতায় প্রতীকী প্রতিবাদ, বামফ্রন্ট নেতারা গ্রেফতার
-
পুলিশের গাড়িতে সুজন চক্রবর্তী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রেশনে দুর্নীতির অভিযোগের সুরাহা ও সকলের করোনা পরীক্ষার দাবিতে প্রতীকী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বামফ্রন্টের প্রথমসারির নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার রেড রোডে বাম নেতারা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশ এসময় তাদেরকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বচসা ও মৃদু ধস্তাধস্তি হয়।
করোনাজনিত লকডাউনের মধ্যে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোলকাতা পুলিশ মাঠে বামফ্রন্ট নেতা বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র, মুহাম্মাদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী ও অন্যদের গ্রেফতার করেছে। পরে আজ বিকেলে তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বামফ্রন্টের দাবি- দুর্নীতি, কালোবাজারি বন্ধ করে মানুষকে ন্যায্য রেশন পৌঁছে দিতে হবে। করোনা নিয়ে সঠিক তথ্য চাই। রাজ্যজুড়ে নমুনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে এবং সমস্ত তথ্য মানুষের সামনে আনতে হবে।
গ্রেফতারের ঘটনায় সিপিএম নেতা ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘এভাবে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আপনারা আমাদের কণ্ঠস্বর রোধ করতে পারবেন না। যত এসব করবেন তত বুঝে নিতে হবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্য নেই। বরং করোনার বিরুদ্ধে যারা মুখ খুলছে তাঁদের কণ্ঠস্বর রোধ করতে চান।’
বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘পুলিশ নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখেনি। আমরা দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম। আমরা এক মিটার দেড় মিটার পর পর দাঁড়িয়েছিলাম। আমি তিন মিটার দূরত্বে ছিলাম। আমরা প্রতীকী প্রতিবাদ করেছি। প্রতীকী প্রতিবাদ করার ফলে আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’
ক্ষুব্ধ সিপিএম নেতা ও সাবেক এমপি মুহাম্মাদ সেলিম বলেন, এবার যদি কারও করোনা হয় কোলকাতা পুলিশ কেস খাবে। কোলকাতা পুলিশ সামাজিক/দৈহিক দূরত্ব মানছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পরে আজ বিকেলে কোলকাতা পুলিশের সদর দফতর লাল বাজার থেকে বাম নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৮