করোনাভাইরাসের আক্রমণ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে সর্বাত্মক লকডাউন, গ্রেফতার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সর্বাত্মক লকডাউন হয়েছে। রাজ্য আজ (বৃহস্পতিবার) ও আগামীকাল (শুক্রবার) পরপর দু’দিন ধরে সম্পূর্ণ লকডাউন চলবে।
আজ রাজধানী কোলকাতাসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে লকডাউন সফল করতে সকাল থেকেই মাঠে নামে পুলিশ বাহিনী। লকডাউনকে উপেক্ষা করে যেসব যানবাহন সড়কে নেমেছিল সেসব গাড়ি থামিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তল্লাশি চালায় পুলিশ।
কোলকাতার বিভিন্ন সড়কে যারা বিনাপ্রয়োজনে যানবাহন নিয়ে পথে বেরিয়েছিলেন তাঁদেরকে পুলিশি ধরপাকড়ের মুখে পড়তে হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত লকডাউনের বিধিনিয়ম না মানার অভিযোগে মোট ১৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন ভাঙার জন্য ৭ গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে মামলা এবং মাস্ক না পরার জন্য ১৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মফিকুল ইসলাম আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ভাইরাসের যে চেইন আছে, সরকার তাকে লকডাউন করে ভাঙতে চাচ্ছে। কিন্তু তার একটা নিয়ম থাকবে। সেই নিয়ম মেনে যে হচ্ছে, তা মনে হচ্ছে না। তার কারণ, হয়তো লকডাউনের ঘোষণা করা হল কিন্তু আবার যদি দেখে কোনও পরব রয়েছে বা কোনও অনুষ্ঠান আছে তখন সেই দিনটাকে বাতিল করে পরিবর্তন করা হল। সেজন্য এগুলোকে মনে হচ্ছে খামখেয়ালি মতো ব্যাপার। ঠিক কী করবে তা বুঝতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে যে মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ যদি এমনিই ভালো করে খাওয়া দাওয়া করে, স্বাভাবিক কাজকর্ম করে তাহলে আরও ভালো থাকবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন চলায় তাতে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।’
পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ হাজার ৫৮১ জন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত রাজ্যটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ১৬৯ টি নয়া সংক্রমণ এবং একইসময়ে ৫৩ জন করোনা রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্যে সুস্থতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৫৪৬।
ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ হাজার ৬৫২ টি নয়া সংক্রমণের রেকর্ড হওয়ার ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৫। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৬৬। হাসপাতাল অথবা হোম আইসোলেশন থেকে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৪ জন করোনা মুক্ত হওয়ায় বর্তমানে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৫ জন সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় পানি শক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওত আজ করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের ৬ জন মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত হলেন। এরআগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল, কৃষি প্রতিমন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরী, আয়ুষ মন্ত্রী (আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিত্সা, ইউনানি, সিদ্ধা, হোমিওপ্যাথি) শ্রীপদ নায়েক করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/এআর/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।