ভারতে মে মাসে করোনায় ১.২ লাখ করোনা রোগীর মৃত্যু
ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ ১ জুন (মঙ্গলবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে ওই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গতকাল (সোমবার) সকাল সকাল ৮ টা থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭৯৫ জন করোনা রোগী প্রাণ হারিয়েছেন।
আজ এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইটে প্রকাশ, ভারতে করোনাজনিত কারণে গত মে মাস ছিল সবচেয়ে সংকটপূর্ণ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মে মাসে ৯২.৮৪ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। একইসময়ে মারা গেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৭৭ জন। যা ওই সময় পর্যন্ত মোট মৃত্যুর ৩৬ শতাংশ। ৩১ মে পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৪ জন সংক্রমিত হয়েছিলেন। এবং ওই সময় পর্যন্ত ৩ লাখ ২৯ হাজার ১০০ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ভারতে এ পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৮১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪ জন সংক্রমিত হয়েছেন। পুনরুদ্ধার হয়েছেন ২ কোটি ৫৯ লাখ ৪৭ হাজার ৬২৯ জন। বর্তমানে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫২০ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
পশ্চিমবঙ্গে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ঘণ্টায় ১৩১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় সর্বাধিক ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপরেই রয়েছে রাজধানী কোলকাতার স্থান। কোলকাতায় ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় ১০, জলপাইগুড়ি ও নদিয়া জেলায় ৯ জন করে, পূর্ব মেদিনীপুর ও হুগলী জেলায় ৭ জন করে, পশ্চিম বর্ধমান ও হাওড়া জেলায় ৫ জন করে করোনা রোগী মারা গেছেন। এছাড়া দার্জিলিং জেলায় ৪, বাঁকুড়া জেলায় ৪, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ২ জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। কালিম্পং ও পুরুলিয়া জেলায় ১ জন করে করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৫৪১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে জোর দেওয়া হলেও প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের মহাসচিব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আজ ভ্যাকসিন ইস্যুতে সরকারি নীতির সমালোচনা করে বলেছেন এ পর্যন্ত মোট ১২ শতাংশ জনতা করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ পেয়েছেন। এবং মাত্র ৩.৪ শতাংশের সম্পূর্ণ টিকাকরণ হয়েছে।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ, ‘২০২০ সালের ১৫ আগস্টের ভাষণে মোদিজি দেশের প্রত্যেক নাগরিককে টিকাকরণ করার দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, পুরো নীলনকশা প্রস্তুত। কিন্তু ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধ্বংসাত্মক সময়ে মোদিজি সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়ার দায়িত্ব থেকে সরে এসে রাজ্য সরকারের উপরে অর্ধেক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘মোদি সরকার ১ মে পর্যন্ত কেবল ৩৪ কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়েছে, তাহলে বাকী ভ্যাকসিন কোথা থেকে আসবে?’ প্রসঙ্গত, ভারতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ পর্যন্ত ২১ কোটি ৬০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৮ ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।