আরেহ ... আমি এখনও বেঁচে আছি
ইরান সম্পর্কে হত্যাকাণ্ডের ভুয়া খবর ও পরিসংখ্যান
-
ইরানের বিক্ষোভে হত্যাকাণ্ড, পশ্চিমা মিডিয়ার অনুষ্ঠান
পার্সটুডে-পশ্চিমা এবং ইসরায়েলি মিডিয়া ইরানের ভাবমূর্তি বিকৃত করে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় হত্যাকাণ্ডের বিকৃত চিত্রায়ন প্রকল্প এজেন্ডায় রেখেছে এবং মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান পরিসংখ্যানও উপস্থাপন করছে।
ইতোমধ্যে, যাদের নাম "নিহত" হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাদের অনেকেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তাদের এ ধরনের মিথ্যা বর্ণনা প্রকাশের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের বিভিন্ন বর্ণনার জন্য বিদেশি মিডিয়াগুলো একটি আলোচনার কেন্দ্র এবং প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে; বিক্ষোভগুলো প্রাথমিকভাবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং নাগরিক ছিল। পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীও বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে, সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠির অনুপ্রবেশের সাথে সাথে বিক্ষোভগুলো বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়।
পশ্চিমা এবং ইহুদিবাদী নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, শত্রুভাবাপন্ন শাসকগোষ্ঠীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা "ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পদ্ধতিগত সহিংসতার" একটি আখ্যান তৈরি করার লক্ষ্যে "হত্যাকাণ্ড" শুরু করে, যাতে দাঙ্গাকারীদের সাথে যুক্ত মিডিয়া আউটলেটগুলোকে প্রচারণার খোরাক জোগাতে পারে। প্রাপ্ত নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিবৃতি অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড দুটি স্তরে ঘটেছিল। প্রথমত, রাস্তাঘাটে সন্ত্রাসীদের দ্বারা মানুষ হত্যার মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত, ভুয়া ন্যারেটিভ তৈরি, নিহতদের মিথ্যা পরিসংখ্যান এবং নাম উপস্থাপন করার মাধ্যমে।
ওহ হো! ... আমি এখনও বেঁচে আছি!
সন্ত্রাসী মুনাফেকিন গোষ্ঠী (এমকেও) এর সাথে যুক্ত কিছু মিডিয়া ইরানের বিক্ষোভে নিহতদের সম্পর্কে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করতে শুরু করে। ইতোমধ্যে, যাদের মৃত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই জীবিত আছেন, মানে তাদের হত্যাই করা হয়নি; ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা নিহত হওয়া তো দূরের কথা! এরকম কিছু ঘটনা নীচে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ইরানে MKO নামে পরিচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোজাহেদিন-ই খালকের সাথে যুক্ত সংবাদমাধ্যমগুলো "কুরুশ শিরিনি" নামে একটি কিশোরের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় তেহরানের পিরুজি স্ট্রিটে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হত্যা করেছে। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসন্ধানে জানা গেছে এই সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ছবিটি "ডেভিড বেনেট" এর, যিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী "নাফতালি বেনেট" এর ছেলে।
কিছু পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে ৯ জানুয়ারীতে সংঘটিত দাঙ্গায় শাহরজাদ মাখামি নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী, যার নাম ডায়ানা বাহাদুর, যিনি গোলেস্তান প্রদেশের (উত্তর ইরান) একজন ব্লগার, "বেবি রাইডার" নামে পরিচিত ছিলেন, নিহত হয়েছেন। অথচ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ২৩শে জানুয়ারী (দাঙ্গার প্রায় দুই সপ্তাহ পর) রাত ১০:৩০ মিনিটে পসাং গ্রাম এলাকার গোলেস্তান ফরেস্ট-গলিকেশ শহরের মহাসড়কে রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে এই তরুণীটি মারা যায়। গোলেস্তান ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার জন্য চালকের অসাবধানতা এবং উচ্চ গতির কারণে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোকেই দায়ী করেছেন। সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাৎকারে, শাহরজাদের বাবা "করিম মাখামি" নিশ্চিত করেছেন যে তার মেয়ে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে তার মৃত্যুর সাথে দাঙ্গার কোনো সম্পর্ক নেই।
পার্সটুডে/এনএম/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন