শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতারের দাবি জানালেন কুণাল ঘোষ
-
তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি আজ (বুধবার) কোলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানান।
কুণাল ঘোষ বলেন, ‘(বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থা) সারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তথ্য উদ্ধার করে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে হবে।’
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সিকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামে যা হয়েছে আমরা সবাই দেখেছি। বিজেপির যারা সদস্য ছিলেন, দলদাস কিছু লোককে দিয়ে বিজেপির পছন্দমত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। ওই রিপোর্টকে ভিত্তি করে সিবিআই নাকি তদন্ত করছে। ইডি চার্জশিট দিল। কেন শুধু অন্যদল? কেন শুভেন্দু অধিকারী নন? এই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাদের নিরপেক্ষ হতে হবে। আর সারদা মামলায় শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করতে হবে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে। যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। কিন্তু তার বদলে শুভেন্দু অধিকারীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে বিজেপি।’
নারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আজ বিশেষ আদালতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়ায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ওই মন্তব্য করেন।
নারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আজ বিশেষ আদালতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) চার্জশিট জমা জমা দিয়েছে। এতে তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র, সাবেক মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, আইপিএস কর্মকর্তা এসএমএইচ মির্জার নাম রয়েছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই চার্জশিটে শুভেন্দু অধিকারীর নাম নেই। এছাড়া অভিযুক্ত অন্যদেরও নাম নেই চার্জশিটে।
এরআগে নারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ‘সিবিআই’। এবার বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দিল ‘ইডি’। চার্জশিটে নাম থাকা বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিধানসভার স্পিকারের কাছে সমন পাঠানো হবে। চার্জশিটে নাম থাকা অন্যদেরও সমন পাঠাবে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশ্যে আসে নারদা আর্থিক দুর্নীতি কাণ্ড। নারদা সংস্থার তোলা গোপন ভিডিয়োতে রাজ্যের তৃণমূল নেতা-নেত্রী-পুলিশ কর্মকর্তাদের টাকা নিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এদের মধ্যে কেউ কেউ বিজেপিতে যোগ দেন। আদালতের নির্দেশে নারদা মামলার তদন্ত শুরু করে ‘সিবিআই’। এরপরে সেই তদন্তে যোগ দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/আবুসাঈদ/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।