আগামী বিশ্বে ইসরাইলের কোনো জায়গা হবে না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i102112-আগামী_বিশ্বে_ইসরাইলের_কোনো_জায়গা_হবে_না_ইরানের_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, তার দেশ ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ও অধিকারের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাবে এবং আগামী বিশ্বে ইসরাইলের কোনো স্থান নেই। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হতাশাজনক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল্লাহিয়ান একথা বলেছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জানুয়ারি ০৪, ২০২২ ১৫:৪৬ Asia/Dhaka

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, তার দেশ ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ও অধিকারের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাবে এবং আগামী বিশ্বে ইসরাইলের কোনো স্থান নেই। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হতাশাজনক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল্লাহিয়ান একথা বলেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য খুব সংক্ষিপ্ত হলেও অনেক অর্থপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলি কর্মকর্তারা এমনসব অনর্থক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন যা থেকে তাদের হতাশাজনক অবস্থান ফুটে উঠেছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ের লাপিদ সম্প্রতি দাবি করেছেন, মার্কিন সরকারের সহযোগিতা ছাড়াই তারা একাই ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম এবং নিজের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কারো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি আরো দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজের পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেবেন কিন্তু জরুরি পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কার্পণ্য করা হবে না।

ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে ইসরাইল আসলে কি লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে সেটাই এখন প্রশ্ন। ধারণা করা হচ্ছে এর পেছনে ইসরাইলের দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনায় ইসরাইল খুবই চিন্তিত। কেননা ভিয়েনায় এখন যে পরমাণু আলোচনা চলছে তার মূল উদ্দেশ্য ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া আর এটাই ইসরাইলের দুশ্চিন্তার মূল কারণ। তবে ইসরাইলের দুশ্চিন্তার অন্য কারণও রয়েছে। বলা যায় ইসরাইল তার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে একদিকে যেমন ওয়াশিংটনের সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সৃষ্ট বিভিন্ন গোলযোগ অব্যাহত রাখারও দরকার আছে। আর এসব কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা।

গত ২৯ নভেম্বর চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা শুরুর আগ থেকেই ইসরাইলি কর্মকর্তারা ইরানকে বারবার হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলারও হুমকি দিয়েছেন তারা। ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াহুদ ওলমার্ট এ কথা ফাঁস করে দিয়েছেন যে ইসরাইল ইরানে হামলা চালাবে না এবং আমাদের সমস্ত সামরিক প্রস্তুতি ও মহড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবলই মার্কিন সরকারকে ভয় দেখানো।

ইরানের বিরুদ্ধে হুমকির পেছনে ইসরাইলের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে মিথ্যাচার ও মশকরা করা এবং এ দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এ বাগাড়ম্বরের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের অবৈধ লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা। তবে ইসরাইলের এ উত্তেজনা সৃষ্টির পরিণতি আমেরিকা ও ইউরোপের জন্যও শুভ হবে না। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পল পিলার 'ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার হুমকি আমেরিকার স্বার্থকে বিপন্ন করবে'- শীর্ষক একটি নিবন্ধে ইসরাইল ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আচরণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ইসরাইলি নীতির অন্ধ সমর্থনের পরিণতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে হঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হুমকির ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া যথার্থ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/০৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।