ইরানের পরমাণু সমঝোতা ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইসরাইল
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i112488-ইরানের_পরমাণু_সমঝোতা_ঠেকাতে_মরিয়া_হয়ে_উঠেছে_ইসরাইল
ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিবাদী লবিগুলো সব সময়ই ইরানের পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে নেতিবাচক তৎপরতা চালিয়ে এসেছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ২৭, ২০২২ ১৬:৫০ Asia/Dhaka

ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিবাদী লবিগুলো সব সময়ই ইরানের পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে নেতিবাচক তৎপরতা চালিয়ে এসেছে।

২০১৫ সালের ওই সমঝোতায় আবারও মার্কিন সরকারের ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখে এই সম্ভাবনা বানচাল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইহুদিবাদী মহলগুলো। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী বেনিআমিন গান্‌জ। বেনি গানজ্ নামে পরিচিত এই যুদ্ধবাজ তার সফরের প্রাক্কালে টুইটারে লিখেছে, ইরানের পরমাণু সমঝোতা যা এখন বিন্যস্ত হচ্ছে তা ইরানের শক্তিমত্তাগুলোকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দেবে না এবং আগামী বছরগুলোতেও সেসবকে সীমিত করবে না; এই সমঝোতা বিশ্বের ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।  
ইহুদিবাদী ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ইয়াল খোলাতাও এক সপ্তাহ আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে প্রণীত যে খসড়া গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে তা মার্কিন সরকারের দেয়া অঙ্গীকারগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইরান ও বিশ্ব-শক্তিগুলোর মধ্যে যাতে কোনো পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরিত না হয় সে লক্ষ্যে ইসরাইল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে যাবেন বলে অঙ্গীকার করায় গত দুই বছর ধরেই ইসরাইল এ সম্ভাবনাকে বানচাল করতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখতেও মার্কিন সরকারগুলোর ওপর চাপ দিয়ে আসছে তেলআবিব। ইসরাইল ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার হুমকিও উচ্চারণ করেছে মাঝে মধ্যে। 
কিন্তু দৃশ্যত বাইডেন সরকার মনে করছে যে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসাটা মার্কিন সরকারের জন্যই বেশি লাভজনক। তাই ইহুদিবাদী লবি আর ইসরাইলের বিরোধিতা ও নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও মার্কিন সরকার এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। 
২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতা থেকে মার্কিন সরকারের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না করেই মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে তেহরান যদি ২০১৫ সালের ওই সমঝোতায় দেয়া অঙ্গীকারগুলো মেনে চলে তাহলে ওয়াশিংটনও একই কাজ করবে। ইসরাইলের চাপের মুখেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বের করে আনে তার সরকারকে। এ বিষয়টি ইসরাইলও স্বীকার করেছে এবং তা ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদবারাকও বেশ আক্ষেপ নিয়ে উল্লেখ করে এ সংকট সৃষ্টির জন্য তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে দায়ি করেছে।
শেষ কথা হল এটা যে ইসরাইল এখন উভয় সংকটে রয়েছে। কারণ বাইডেন ইসরাইলি ও ইহুদিবাদীদের মুখ বন্ধ করতে এ ওয়াদা দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পরমাণু সমঝোতায় তেল-আবিবের উদ্বেগের বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখবে। অন্যদিকে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী দেখছে যে তারা ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার মত কার্যকর কিছুই করতে পারছে না!  #