ইরানের সাথে নদীর পানি বন্টন নিয়ে বিতর্ক অবসানে তালেবান মন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
আফগানিস্তানে তালেবানের অস্থায়ী সরকারের পানি ও জ্বালানিমন্ত্রী ১৯৭৩ সালে অভিন্ন নদীর পানি বন্টন বিষয়ে ইরানের সাথে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এ নদীর পানি ভাগাভাগি করার বিষয়ে ১৯৭৩ সালে ইরান ও আফগানিস্তানের তৎকালীন সরকারের মধ্যে ওই চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন মাস ও ঋতু বা আবহাওয়ার তারতম্যের বিষয়টি লক্ষ্য রেখে ইরান সেকেন্ডে ২৬ কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবানরা ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর চুক্তি অনুযায়ী হিরমান্দ নদীর পানি ইরানকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
কিন্তু তালেবান কর্তৃপক্ষ ইরানের অধিকারের বিষয়টি স্বীকার করলেও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইরান অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য এখনো হিস্যা পায়নি এবং এ কারণে তেহরান অসন্তুষ্ট। আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আমিন ফারজাদ এ ব্যাপারে বলেছেন, 'তালেবান কর্মকর্তারা শুধু মুখে ইরানের অধিকারের কথা বলছে কিন্তু বাস্তবে ইরান যখন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পানি পাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে তখন তারা নানান রকম অজুহাত দেখাচ্ছে এবং কখনো বলছে বৃষ্টি কম হয়েছে আবার কখনো বলছে তাদের পানির মজুদ কম ইত্যাদি। এ থেকে অভিন্ন নদীর পানি বন্টন চুক্তি বাস্তবায়নে তালেবানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে'।
প্রকৃতপক্ষে, গত দুই দশকে আফগানিস্তানের সব সরকারই একটি খাল তৈরি করে হিরমান্দ নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তন করে পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় যেহেতু তারা ইরানের অধিকারের বিষয়টি স্বীকার করছে সেহেতু ইচ্ছে করলে পানি পথ সংস্কার করে ইরানকে পানির অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের পানি ও জ্বালানি বিষয়কমন্ত্রী আব্দুল লতিফ মানসুর যেমনটি বলেছেন, পানির বিষয়টি রাজনৈতিকিকরণ করা উচিত নয় এবং এ ইস্যুতে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা থেকেও বিরত থাকা উচিত। পানি বন্টন ইস্যুতে তালেবান সরকারের উচিত এ নিয়ে রাজনৈতিকিকরণ বন্ধ করা।
আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলী আলায়ে এ ব্যাপারে বলেছেন, ১৯৭৩ সালে পানি বন্টন চুক্তিতে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই, তাই তালেবানের উচিত হবে না এ বিষয়টিকে জটিল করা এবং এ নিয়ে রাজনীতি করা। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিন্ন নদীর পানি পাওয়া সব দেশের অধিকার। তালেবানের উচিত নদীর পানি নিয়ে রাজনীতি না করে সৎপ্রতিবেশী হিসেবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।
যাইহোক, তালেবানরা জনগণ ও প্রতিবেশীদের কাছে নিজেদেরকে দায়িত্বশীল শাসক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও তারা সেই সমর্থন পাবে বলে মনে হয় না। কেননা তারা বিভিন্ন ধরনের অধিকার থেকে জনগণ ও প্রতিবেশীদেরকে বঞ্চিত করে রেখেছে। এ ছাড়া তারা এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। এ অবস্থায় প্রতিবেশীদের সাথে যে কোনো উত্তেজনা তৈরি থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।