ট্রাম্পের আগুন নিয়ে খেলা ও ইরানের কঠোর জবাব: আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i156560-ট্রাম্পের_আগুন_নিয়ে_খেলা_ও_ইরানের_কঠোর_জবাব_আঞ্চলিক_উত্তেজনা_চরমে
পার্সটুডে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'যুদ্ধংদেহী' বক্তব্য অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, "ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র করছে, ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।”
(last modified 2026-02-27T09:00:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬ ১৯:১৬ Asia/Dhaka
  • জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি
    জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি

পার্সটুডে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'যুদ্ধংদেহী' বক্তব্য অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, "ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র করছে, ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।”

ইরাভানি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধাপরায়ণ বক্তব্য, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন, উস্কানিমূলক এবং স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সংবিধানের বিপরীত, তা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করি।”

তিনি আরও বলেন, "একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদান জাতিসংঘ সনদের ধারা ২(৪) এর স্পষ্ট লঙ্ঘন; এই ধারাটি স্পষ্টভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা এর হুমকি নিষিদ্ধ করে।"

ইরাভানি যোগ করেন, “দুর্ভাগ্যবশত, এই বক্তব্য কেবল অতীতের মতো নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চাপ, ভীতি প্রদর্শন, অস্থিতিশীল কার্যকলাপ, গোপন গোয়েন্দা অপারেশন ও বেআইনি নিষেধাজ্ঞার একটি বিস্তৃত ও প্রমাণিত ধারার অংশ।"

ট্রাম্পের হুমকি কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি এবং বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পশ্চিম এশিয়ায় প্রেরণ উত্তেজনাকে কয়েকটি কারণে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। 

১) ভুল হিসাব ও প্রতিক্রিয়ার চক্র বাড়ানো

ট্রাম্পের স্পষ্ট হুমকি এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শন অবিলম্বে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি সতর্ক করে বলেছেন, “যেকোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী 'তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী' প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত।”

এই হুমকির বিনিময় এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি এমন পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে ছোটতম ভুল হিসাব বা সীমিত সীমান্ত সংঘর্ষ দ্রুত বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। ইরান চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, ট্রাম্পের বক্তব্য “ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”

২) কূটনৈতিক পথ বন্ধ করা

এই আগ্রাসী ভাষা ডিপ্লোম্যাটিক সমাধানের সম্ভাবনা কমাচ্ছে। প্রাথমিক আলোচনা যেগুলো তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যে সীমিত পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য চলছিল, তা এখন আটকে গেছে।

যাইহোক,  ট্রাম্পের হুমকি, যেমন বৃহৎ আক্রমণ বা 'রেজিম চেঞ্জ', এমন কোনো প্যাকেজ বাস্তবায়নের চেষ্টা যা ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়—যেমন শূন্য সমৃদ্ধকরণ, ইউরেনিয়াম স্টক ধ্বংস, ক্ষেপণাস্ত্র সীমাবদ্ধতা, অথবা প্রতিরোধ মহাজোটের সহায়তা বন্ধ করা—ডিপ্লোম্যাটিক আউটলেটকে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই তীব্র বক্তব্য ইরানের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে, কারণ তারা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজেদের রক্ষা করতে দৃঢ় হচ্ছে।

৩) আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ এবং সংঘর্ষের বিস্তার

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফল হলো পুরো অঞ্চল জুড়ে সংঘর্ষের সম্ভাবনা। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন মিত্ররা, যারা ইরানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আছে, গোপনে সতর্ক করেছে যে যেকোনো সামরিক আক্রমণ “বিস্তৃত সংঘাতে” পরিণত হতে পারে।

তারা আশঙ্কা করছে, ইরান যদি আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানায়, তা কেবল মার্কিন লক্ষ্য নয়, পুরো অঞ্চলে সংঘর্ষ ছড়াতে পারে। এই সতর্কতা প্রমাণ করছে, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা এতই ভঙ্গুর যে, এমন ঝুঁকি কেউ নিতে চায় না।

সর্বোপরি বলা যায়- ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন হুমকি, যা 'আত্মসমর্পণ করো নতুবা সামরিক হামলা' কৌশলের কাঠামোতে উত্থাপিত হয়েছে, তা কোনো সুপরিকল্পিত নীতি নয়, বরং অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির একটি উপাদান। এই বক্তব্য পাল্টা হুমকির চক্র তৈরি করে, কূটনীতির দরজা বন্ধ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মিত্রদের ভীত করে অঞ্চলটিকে আরও বড় সংকটের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। ইতিহাস দেখিয়েছে যে, এমন উত্তপ্ত পরিবেশে ঘটনাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে এবং ফলাফল অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক হতে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৯