ইসরায়েল এবং তার সমর্থকরা ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার চেষ্টা করেছে: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
-
• ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন: সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং তার কিছু পশ্চিমা সমর্থক সর্বদা ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার চেষ্টা করেছে।
শনিবার, ফজরের পবিত্র দশকের শুরুর প্রাক্কালে, ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকীতে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারের সদস্যদের সাথে, ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারত করেন। পার্সটুডে জানিয়েছে, ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর আদর্শের প্রতি সরকারের সদস্যদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করার অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন: সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং তার কিছু পশ্চিমা সমর্থক সর্বদা ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার এবং জনগণের সামাজিক দাবির অপব্যবহার করার জন্য প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চেয়েছে।
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন: সাধারণ মানুষদের বিক্ষোভের সুযোগে এক দল সশস্ত্র ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর উপর আক্রমণ এবং জনসাধারণের সম্পত্তি ধ্বংসের মাধ্যমে বিক্ষোভকে সহিংস করে তোলে; এমন এক কর্মকাণ্ড যার লক্ষ্য জনগণের দাবি তুলে ধরা করা নয়, বরং দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
ইরান সরকারের চূড়ান্ত কর্তব্য হল বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠস্বর শোনা এবং তাদের প্রকৃত উদ্বেগের প্রতি সাড়া দেওয়া এ কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খামেনেইয়ের সতর্কতা এবং জনগণের আনুগত্য এখন পর্যন্ত শত্রুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যর্থ করে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউরোপীয়রা সকলেই ইরানে সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি ও দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন: তারা কিছু নিরীহ মানুষকে উস্কানি দিয়ে রাস্তায় টেনে নামিয়ে, এই দেশকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে, মানুষের মধ্যে মারামারি, নৈরাজ্য ও দাঙ্গা তৈরি করতে এবং সামাজিক বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছিল।
যেকোনো সাধারণ সামাজিক বিক্ষোভে তারা বন্দুক তুলে নেয় না, সামরিক বাহিনীকে হত্যা করে না, অ্যাম্বুলেন্স ও বাজারে আগুন দেয় না একথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট আরো বলেন: "আমাদের কর্তব্য হল বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠস্বর এবং উদ্বেগ শোনা এবং তাদের সমস্যা সমাধান করা এবং আমরা এর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সবাই জানে যে বিষয়টি কেবল একটি সামাজিক প্রতিবাদ ছিল না। বরং শত্রুরা আমাদের সমস্যাগুলি পুজি করে তাদের উস্কে দিয়েছে এবং সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে এবং করছে।" ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত সমাজকে কোনও শক্তিই ধ্বংস করতে পারে না বলে উল্লেখ করে, ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিগত, ভাষাগত এবং বর্ণগত বৈষম্য এড়াতে জোর দিয়ে বলেন: "কোনও জাতিগত বা ভাষা ন্যায়বিচার প্রশাসনকে বাধাগ্রস্ত করবে না।"#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।