পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে ইরানের দৃঢ় অঙ্গীকার: পেজেশকিয়ান
-
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
পার্সটুডে- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে ইরান দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি, আগের চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যকার সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং দুই দেশের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সফরে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষ এসব চুক্তি ও সমঝোতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং সেগুলোর অগ্রগতি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
পেজেশকিয়ান ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনের কথা তুলে ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে বিস্তৃত অভিন্নতার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি স্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে ইরানের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ অব্যাহত থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান বলেন, এই ধারাবাহিক যোগাযোগ বিভিন্ন চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত এবং তেহরান ও ইসলামাবাদের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
এ সময় আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থান এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক সংকটের বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক আলোচনা ও উদ্যোগ অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং এর ফলে শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও মতবিনিময় হয়। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, আরব উপদ্বীপের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া, দুই দেশের বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা, আঞ্চলিক সংলাপের অগ্রগতি এবং বিরোধগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তার লক্ষ্যে কূটনৈতিক ও মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তেজনা কমানো এবং টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক পথ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেহবাজ শরিফ ইসলামাবাদ সমঝোতা বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের গঠনমূলক ও আন্তরিক ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতির কথাও জানান।#
পার্সটুডে/এমবিএ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।