দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত নিঃসঙ্গতায়’ ভুগছে: ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163958-দ্বিতীয়_বিশ্বযুদ্ধের_পর_প্রথমবার_যুক্তরাষ্ট্র_কৌশলগত_নিঃসঙ্গতায়’_ভুগছে_ইরানের_সেনাবাহিনীর_মুখপাত্র
পার্সটুডে: ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত নিঃসঙ্গতার মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ যুদ্ধ শুরু করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে উৎখাত করা নয়, বরং ইরানি-ইসলামি সভ্যতাকে ধ্বংস করা। ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে পার্স টুডে জানায়, দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া বুধবার এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
(last modified 2026-10-15T10:04:18+00:00 )
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:১০ Asia/Dhaka
  • ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া।
    ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া।

পার্সটুডে: ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত নিঃসঙ্গতার মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ যুদ্ধ শুরু করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে উৎখাত করা নয়, বরং ইরানি-ইসলামি সভ্যতাকে ধ্বংস করা। ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে পার্স টুডে জানায়, দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া বুধবার এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—ইরানের সেনাবাহিনী ঐশী বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও চেতনা গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরতে প্রতিপক্ষ যেসব মিথ্যা বয়ান তৈরি করে, সেগুলো প্রতিহত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমাজের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

সামরিক শক্তির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’

আকরামিনিয়া বলেন, বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে সামরিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় ‘সফট পাওয়ার’ বা কোমল শক্তির ধারণা গুরুত্ব পায়। এটি প্রচলিত সামরিক শক্তির পরিপূরক এবং সেই শক্তিকে আরও কার্যকর করে তোলে। তাই সেনাবাহিনীর সফট পাওয়ার গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি গ্রিসের অ্যাক্রোপলিসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি ইরানের সফট পাওয়ারের ভিত্তি দুর্বল করার জন্য প্রতিপক্ষের চলমান প্রচেষ্টার অংশ।

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আগে বলত যে তাদের বিরোধিতা কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, সভ্য ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সেই অবস্থানের মুখোশ উন্মোচন করেছে এবং দেশটির আধিপত্যবাদী মানসিকতা ও সভ্যতাবিরোধী চরিত্র প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “বর্তমান যুদ্ধ শুরু করার পেছনে মার্কিন শাসকদের লক্ষ্য ইরানি-ইসলামি সভ্যতাকে ধ্বংস করা; শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকারকে উৎখাত করা নয়।”

ইরানের জনগণকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব হয়নি

আকরামিনিয়া আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা মনে করেছিলেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের শহীদ করার মাধ্যমে তাঁরা ইরানের জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সচেতন ও সাহসী জনগণ ঐতিহাসিক দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে বিস্মিত করেছে এবং তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।#

 

পার্সটুডে/এমবিএ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।