আল-আকসা মসজিদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
ফিলিস্তিনের প্রতি ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন কুদস ফোর্সের কমান্ডার
-
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি বলেছেন, কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন থেকে সরে আসবে না ইরান।
বুধবার বৈরুতভিত্তিক আল-কুদস আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে পাঠানো এক বার্তায় তিনি ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি ইরানের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদের সুরক্ষায় তেহরানের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
কায়ানি জানান, ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে বিদ্যমান হুমকি সম্পর্কে সংস্থাটির পাঠানো বার্তা তিনি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “আল-আকসা মসজিদের বিষয়টি এবং শত্রুদের সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলা করা আমাদের অবিচল অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি। ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিবেচনা ও অগ্রাধিকারের তালিকায় এই বিষয়টি সব সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।”
কুদস ফোর্সের কমান্ডার বলেন, ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লব বিজয় অর্জনের পর থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বহিরাগত চাপ তেহরানকে এই অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কায়ানির ভাষায়, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর যত চাপ, বিপদ, চ্যালেঞ্জ ও হুমকিই আসুক না কেন, দেশটি অতীতে এই দায়িত্ব পরিত্যাগ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইসরায়েলি দখলদারত্ব ও আগ্রাসন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের প্রতি সমর্থনের অবস্থান পরিবর্তন করেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিনা উসকানিতে চালানো আগ্রাসনের সময় ইরানের প্রতি সমর্থন জানানোয় আল-কুদস আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন কায়ানি। বিশেষ করে ইরানের শহীদদের, এবং ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির মৃত্যুতে সংস্থাটির শোক প্রকাশের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
আল-আকসা প্রাঙ্গণ ঘিরে অব্যাহত উত্তেজনা
অধিকৃত পূর্ব আল-কুদসে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কায়ানির এই বার্তা এসেছে। সেখানে ফিলিস্তিনি মুসলিম ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের প্রবেশ ও নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এদিকে, গত এক বছরে হাজার হাজার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সুরক্ষায় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অনুপ্রবেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন বা সঙ্গ দিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
কায়ানি ছাড়া, পবিত্র স্থানটির দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টার মধ্যে বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদ প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক ধর্মীয় আচারও পালন করেছে। কায়ানির বক্তব্যে ফিলিস্তিনের প্রতি ইরানের দীর্ঘদিনের সমর্থন এবং আল-আকসা মসজিদের সুরক্ষাকে তেহরানের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি আবারও উঠে এসেছে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।