কীশ দ্বীপ: যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলোকে একসাথে দেখা যায়
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i16738-কীশ_দ্বীপ_যেখানে_প্রাকৃতিক_সৌন্দর্যগুলোকে_একসাথে_দেখা_যায়
পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলজুড়ে ৯১ বর্গ কিলোমিটার স্থানব্যাপী ডিমের আকৃতির দ্বীপের নাম কীশ দ্বীপ। পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কীশ দ্বীপের দৈর্ঘ্য হলো ১৫ কিলোমিটার। আর উত্তর দক্ষিণে দ্বীপটির প্রস্থ হলো প্রায় ৮ কিলোমিটার। সমগ্র বিশ্বের সাথে ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এই দ্বীপটির ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
আগস্ট ০৮, ২০১৬ ২০:২৭ Asia/Dhaka

পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলজুড়ে ৯১ বর্গ কিলোমিটার স্থানব্যাপী ডিমের আকৃতির দ্বীপের নাম কীশ দ্বীপ। পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কীশ দ্বীপের দৈর্ঘ্য হলো ১৫ কিলোমিটার। আর উত্তর দক্ষিণে দ্বীপটির প্রস্থ হলো প্রায় ৮ কিলোমিটার। সমগ্র বিশ্বের সাথে ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এই দ্বীপটির ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কীশ দ্বীপটি নৌচালনা এবং মুক্তা কুড়ানোর জন্য বিখ্যাত। এজন্যে কীশের আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে। কীশের আবহাওয়ায় আর্দ্রতা রয়েছে বেশ। সমুদ্রের তীরে অবস্থানের কারণেই আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি। আর উষ্ণতার মাত্রাও অনেক। বছরের কোনো ঋতুতেই এমনকি প্রচণ্ড শীতেও কীশের আবহাওয়ায় উষ্ণতার পরিমাণ ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নীচে নামে না। বছরের ছয় মাস মোটামুটি গরম থাকে এখানকার আবহাওয়া আর বাকি ছয় মাস বেশ উপভোগ্য আবহাওয়া বিরাজ করে।

খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার বছর আগে থেকে এখানে মানব বসতি গড়ে উঠেছে। কীশের সংস্কৃতি যেমন প্রাচীন তেমনি সমৃদ্ধ। তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রাচীনকাল থেকেই কীশের খ্যাতি ছিল। ইতিহাস এবং ভূগোলের বহু বইতে অবশ্য এই দ্বীপটির বিচিত্র নাম পাওয়া যায়। যেমন কীশ, কামতিনা, আরিয়ান, কেইস এবং আরো অনেক নাম। ভেনিস পর্যটক মার্কোপুলু তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে লিখেছেন, তিনি চীন সম্রাটের স্ত্রীর গলায় মুক্তার মালা দেখে বিস্মিত হন। আরো লিখেছেন, ওই মুক্তাগুলো কীশ দ্বীপ থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল।

স্যাটেলাইট থেকে তোলা কীশ দ্বীপের ছবি

ইরানের কালজয়ী কবি সা'দীও সপ্তম শতকে তাঁর বিখ্যাত ‘গোলেস্তান’ কাব্যগ্রন্থে কীশ দ্বীপ প্রসঙ্গে লিখেছেন। তৎকালীন কীশের মর্যাদা, ব্যাপক বিস্তৃতি এবং কীশের বাণিজ্যিক লেনদেনের বিষয়টিই তিনি তুলে ধরেছিলেন তাঁর লেখায়। আরো অনেক পুরনো বইতেও কীশের বিচিত্র ব্যবস্থাপনার কথা লক্ষ্য করা যায়। যেমন- জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদের পর প্রাসাদ, চমৎকারসব বাগ বাগিচা, পানি সরবরাহ করার অভিনব ব্যবস্থা ইত্যাদি। আর এসব থেকেও প্রমাণিত হয়, বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্যে কতোটা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল দ্বীপটি। সেইসাথে জনবসতি যে প্রচুর ছিল সেটাও সহজেই উপলব্ধি করা যায়।

কীশের এতসব সুযোগ সুবিধা আর আনুকূল্যের কারণে এবং সেখানকার জনগণের সহযোগিতায় ইরানের সর্বপ্রথম ফ্রি ট্রেড জোন হিসেবে দ্বীপটি সমৃদ্ধি লাভ করে। বাণিজ্য ছাড়াও শিল্প এলাকা এমনকি টুরিস্ট স্পট হিসেবেও কীশ দ্বীপটি বেশ নামকরা। সমগ্র দ্বীপের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ এলাকা পর্যটনের জন্যে নির্দিষ্ট, শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ এলাকা রাখা হয়েছে শিল্পের জন্যে আর ১৫ থেকে ২০ ভাগ এলাকা বাণিজ্যিক কাজের জন্যে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আরো বেশ কিছু এলাকা রাখা হয়েছে ভবিষ্যৎ কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে। পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে কীশ হয়ে উঠেছে দর্শনীয় একটি দ্বীপ।

তোরাজ হোটেল, কীশ দ্বীপ

কীশ দ্বীপে রয়েছে উপকূলীয় বৈচিত্র্য, রয়েছে স্ফটিক স্বচ্ছ পানি, বহুরকমের প্রবাল, বিচিত্র রঙের অ্যাকুরিয়ামের মাছ এবং সর্বোপরি কীশে রয়েছে মন কেড়ে নেয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এগুলো কীশ দ্বীপ দেখতে যাওয়া যে কোনো দর্শক বা পর্যটককেই যে নিঃসন্দেহে আকৃষ্ট করবে তা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না। সবমিলিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের অভিমত হল- পৃথিবীর মধ্যে এমন একটি দ্বীপ একেবারেই বিরল যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলোকে মোটামুটি একসাথে দেখতে পাওয়া যায়।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৯