'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী' নামক ডকুমেন্টারি উদ্বোধন করল ইরান
ইরানে আজ (বৃহস্পতিবার) নির্বাচিত মোসাদ্দেক সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। আর এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী' নামক ডকুমেন্টারি উদ্বোধন করল ইরান।
ফার্সি ১৩৩২ সালের ২৮ মোরদদ মোতাবেক ১৯৫৩ খ্রীষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। এর মাধ্যমে দেশটির নির্বাচিত ও জনপ্রিয় মোসাদ্দেক সরকারকে উৎখাত করা হয়।
ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ও তার সরকার ইরানের তেল শিল্পকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেয়ার পরই এই সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। সে সময় উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ সরকার দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দি ধরে ইরানের তেল সম্পদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল।
ইরানের তেল খাত থেকে অর্জিত অর্থের প্রায় পুরোটাই ব্রিটেনের পকেটে চলে যাচ্ছিল। এ কারণে ইরানের তেল সম্পদকে জাতীয়করণ করা ছিল তৎকালীন সময়ের একটি প্রধান জনপ্রত্যাশা। ১৯৪০'র দশকের শেষ দিকে ইরানের তেল সম্পদকে জাতীয়করণের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অবশেষে ইরানের জাতীয় সংসদ ১৯৫১ সালের মার্চ মাসে এই জনপ্রত্যাশা বাস্তবায়ন করে।
এর ফলে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারের স্বার্থে আঘাত লাগে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানের উপর চাপ বৃদ্ধি করে। ব্রিটিশরা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন সরকারকে পর্যন্ত এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগের জন্য রাজি করাতে সক্ষম হয়েছিল। এ সময় ইরানের অভ্যন্তরেও তেল সম্পদ জাতীয়করণ ইস্যুতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য ছিল।
এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র বৃটেনের সহযোগিতায় ইরানে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা করে। মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের অভ্যন্তরে অবস্থিত দালাল চক্রকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়।
এর মধ্যদিয়ে ড. মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা শাহ দেশে ফিরে আসে। আর এরপরই যুক্তরাষ্ট্র শাহের মাধ্যমে তেল শিল্পসহ গোটা দেশের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। শুরু হয় মার্কিন নেতৃত্বে ইরানের সম্পদ লুটপাটের মহোৎসব। ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।#
পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/আবুসাঈদ/১৮