দামাভান্দ : ইরানের আলবোর্য পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (ভিডিও)
-
দৃষ্টিনন্দন দামাভান্দ পর্বত
দামাভান্দ পর্বত উত্তর ইরানের আলবোর্য পর্বতমালার সর্বাধিক সুন্দর ও মনোহর গিরিশৃঙ্গ। এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ঢালু হয়ে ক্রমান্বয়ে ওপরে উঠে যাওয়া, অনেকটা গোলাকার ধরনের ও সুবিন্যস্ত পর্বত দামাভান্দের উচ্চতা সমুদ্রপ্রষ্ঠ থেকে ৫৭৭১ মিটার। এটি আলবোর্য পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং এশিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি।
পর্বতশৃঙ্গটি কোণকাকৃতির এবং এর জ্বালামুখ এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। পর্বতটির পাদদেশে অনেক উষ্ম পানির ঝর্ণা আছে, যার অর্থ এর ভেতর এখনও বেশ উত্তপ্ত। দামাভান্দ পাহাড়ের কাছেই অবস্থিত দামভান্দ শহর একটি জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপন কেন্দ্র।

ফারসি সাহিত্যে দামাভান্দ পাহাড়ের রয়েছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। বনু ইরানি রূপকথায় এবং মানব জাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম বীরত্ব কাহিনী সম্বলিত মহাকাব্য ‘শাহ্নামা’য় (ফারসি উচ্চারণ ‘শাহ্নমে’) দামাভান্দ পর্বত বিশেষ স্থান দখল করে আছে। গোটা ইতিহাসে দামাভান্দ ইরানিদের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে গণ্য করেছে।

আকাশে যখন মেঘ না থাকে তখন দামাভান্দকে অনেক দূর থেকে দেখা যায়। ইমামযাদা হাশেম নামক পর্বতসমষ্টির যেখানে পানি জমে আছে তার পানিসীমা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে দামাভান্দের প্রধান আগ্নেয়গিরির মুখ। দামাভান্দের মধ্যকার সবচেয়ে বড় গিরিপথ পোলভার নোওতল রেখা বরাবর চলে গেছে যার দৈর্ঘ্য ২৮ কিলোমিটার। দামাভান্দের সবগুলো গিরিপথের মোট আয়তন ৪০০ বর্গ কিলোমিটার।

দামাভান্দের চূড়া থেকে মোটামুটি পাঁচ-ছয়’শ মিটার নিচে গিরিশৃঙ্গকে ঘিরে একটি জলীয় বাষ্পের বলয় তৈরি হয় যা পরিষ্কার আকাশে বহুদূর থেকে চোখ পড়ে। এ জলীয় বাষ্প দেখতে অনেকটা মেঘের মতো মনে হয়। এছাড়া দামাভান্দ শৃঙ্গের চতুর্দিকে হলুদ রং দেখা যায়। এ হলুদ রঙের কারণ দামাভান্দ পাহাড়ের গঠনে গন্ধক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৮