ইরানের বিরুদ্ধে বান কি মুনের হাস্যকর বক্তব্য: প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে।
বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বান কি মুন তার ১৯ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে ইরানে ফাঁসি দেয়া, গ্রেফতার, অন্যায় বিচার এবং জেলখানায় অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে তিনি আরো বলেছেন, ২০১৫ সালে ইরানে অন্তত ৯৬৬ ব্যক্তিকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে যা কিনা গত ২০ বছরের মধ্যে ছিল নজিরবিহীন ঘটনা। জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনে ইরানে বাক-স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব ক্ষেত্রে ইরানের আশানুরূপ উন্নতি তো হয় নি বরং অবনতি ঘটেছে এবং এটা কাম্য নয়।
অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, ইসলামী ইরানের সংবিধানে সব মানুষের সমান অধিকার দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ইরানের একজন ব্যক্তি যে জাতি, গোত্র, সংস্কৃতি কিংবা ধর্মের অনুসারী হোক না কেন সবার অধিকার সমান এবং অধিকার কিংবা সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে বর্ণ, ভাষা, রঙের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সেইসব সীমাবদ্ধতা শিথিল করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেখানে সামাজিক ও নাগরিক তৎপরতার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইরানে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের অবস্থা এবং তাদেরকে চলে যেতে বাধ্য করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তিনি এবারের প্রতিবেদনে নতুন আরো কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের কর্মকর্তারা আফগান শরণার্থীদের মধ্য থেকে কম বয়সী ও মধ্য বয়সী ব্যক্তিদেরকে সিরিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন এবং এ কাজে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাশ্চাত্যের বিভিন্ন মহল মানবাধিকার ইস্যুতে ইরান-বিরোধী অবস্থান নিয়ে বিশ্বে ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থার বদনাম করার চেষ্টা করে আসছে বহুদিন ধরে। ঠিক একই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও ইরান-বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় মানবাধিকার ইস্যুতে যেসব প্রতিবেদন বা বিবৃতি প্রকাশিত হয় তার ভিত্তি বা যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ পশ্চিমা মানবাধিকারের দাবিদারদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মোটেও স্বচ্ছ নয়। আর জাতিসংঘও পাশ্চাত্যের প্রভাবমুক্ত নয়। ইরানের ব্যাপারে জাতিসংঘের এত মাথা ব্যথা; অথচ ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও আফগানিস্তানে যে শত শত মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে তা বন্ধে জাতিসংঘ কি কোনো ভূমিকা পালন করতে পেরেছে? মানবাধিকারের দাবিদার দেশগুলোই সন্ত্রাসী পাঠিয়ে ও অস্ত্র দিয়ে এসব দেশকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। এতসব অন্যায় রোধে জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালন করেছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব ইরানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন অথচ আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী এবং মুসলমানদের অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বান কি মুন কোনো কথাই বলছেন না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছুদিন পরেই বান কি মুন তার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। এ অবস্থায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলার পরিবর্তে তার উচিৎ সত্যিকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। বান কি মুন হয়ত এটা ভুলে গেছেন, মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি সৌদি আরবের প্রচণ্ড রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে শিশু হত্যাকারীদের তালিকা থেকে সৌদি আরবের নাম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এটি তার কর্মজীবনে কালো অধ্যায় হয়ে আছে। কিন্তু বিশ্ববাসী বান কি মুনের এ কলঙ্কের কথা কোনো দিন ভুলবে না।
বান কি মুন এমন সময় ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন যখন তিনি তার নিজ দায়িত্ব বা কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো জবাবদিহিতা করেন নি। তাই বলা যায়, মানবাধিকার বিষয়ে যারা দ্বিমুখী নীতি নিয়ে চলে তাদের ইচ্ছেতেই ইরান-বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যা কিনা কেবল সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার মিত্রদের স্বার্থই রক্ষা করবে।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৫