ইমাম রেজা (আ.)'র মাজার কমপ্লেক্স: যেখানে আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজমান
-
ইমাম রেজা (আ.)-এর মাযার
ইরানের ইতিহাস সমৃদ্ধ পূণ্যভূমি মাশহাদ শহরটি খুব বেশী প্রাচীন নয়। ছয় শতাব্দীতে এটি গড়ে উঠেছে। 'মাশহাদ' শব্দের অর্থ হলো শহীদদের দাফনস্থান। এখানেই দাফন করা হয়েছে নবীবংশের অষ্টম ইমাম হযরত রেজা (আ.)কে।
হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর আদেশে তাঁর স্ত্রীকে রেখে এসেছিলেন এক বিরান মরুভূমিতে। সেই মরুভূমি কালের পরিক্রমায় আজ মক্কার তিলোত্তমা শহরে পরিণত হয়েছে। একইভাবে মাশহাদ শহরটি বর্তমানে একটি দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাযারকে কেন্দ্র করে।

মাশহাদ শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে এই মাজার কমপ্লেক্সটি মূল্যবান ও অন্যতম বলে বিবেচিত। আধ্যাত্মিকতার পূণ্যভূমি হিসেবে প্রসিদ্ধ এই মাজার কমপ্লেক্সটি একটি রিং রোডের কেন্দ্রে অবস্থিত বলে এর গঠনও বৃত্তাকার। বিভিন্ন সময়ে এটির নির্মাণ কাজ করা হয়েছে।

গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এতে কয়েক শতাব্দীর স্থাপত্যকলার বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ইমামকে যে জায়গায় দাফন করা হয়েছে অর্থাৎ উনার মূল কবর যেখানে, তার চারপাশে ইস্পাতের তৈরি এক ধরণের বিশেষ বেষ্টনী রয়েছে। এর উপরিভাগে রয়েছে স্বর্ণের বিচিত্র কারুকাজ। এসব কারুকাজের অধিকাংশই পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ক্যালিগ্রাফি।

যিয়ারতকারীগণ পরম শ্রদ্ধায় এই বেষ্টনীর গায়ে চুমু খায়, কপাল ঠেকিয়ে বিয়োগ ব্যথা অনুভব করে। দু' হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করে অন্তরের চাহিদা পূরণে দোয়া করে। বেষ্টনীর চারপাশে খালি মেঝেয় বসে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করে কেউ। সব মিলিয়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করে সেখানে।

হারামের ভেতরে সোনা ও রূপার যে বিচিত্র কারুকাজ, তার পাশাপাশি কাঁচের শিল্পকর্মে সজ্জিত ক্যানভাসে মৃদু আলোর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য যিনি একবার দেখেন, তিনি আর ফিরে আসতে চান না। বিখ্যাত ৭ জন ইরানি শিল্পী আড়াই বছর ধরে এসব কারুকাজ সম্পন্ন করেছেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১