ইরানের ঐতিহাসিক তাব্রিজ বাজার: ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i26026-ইরানের_ঐতিহাসিক_তাব্রিজ_বাজার_ইউনেস্কোর_বিশ্ব_ঐতিহ্য
জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়ে ইরানের পূর্ব আযারবাইজানের তাব্রিজ বাজার। ইরানের ঐতিহ্যবাহী বাজার সংস্কৃতি ও বাণিজ্য-ব্যবস্থাপনার এক আদর্শ দৃষ্টান্ত এই বাজার। পরস্পর সংলগ্ন এই বাজারের ওপরে রয়েছে সুদৃশ্য ছাদ। এটাই বিশ্বে ছাদযুক্ত বৃহত্তম বাজার।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
নভেম্বর ১৮, ২০১৬ ০৯:০১ Asia/Dhaka
  • তাব্রিজ বাজার: বিশ্বে ছাদযুক্ত বৃহত্তম বাজার
    তাব্রিজ বাজার: বিশ্বে ছাদযুক্ত বৃহত্তম বাজার

জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়ে ইরানের পূর্ব আযারবাইজানের তাব্রিজ বাজার। ইরানের ঐতিহ্যবাহী বাজার সংস্কৃতি ও বাণিজ্য-ব্যবস্থাপনার এক আদর্শ দৃষ্টান্ত এই বাজার। পরস্পর সংলগ্ন এই বাজারের ওপরে রয়েছে সুদৃশ্য ছাদ। এটাই বিশ্বে ছাদযুক্ত বৃহত্তম বাজার।

স্থাপত্য-শৈলী ও বাহ্যিক সৌন্দর্য্যের দিক থেকেও এটি বিশ্বে অনন্য। অষ্টম হিজরীর বিখ্যাত লেখক ও ঐতিহাসিক হামিদুল্লাহ মুস্তফি তার লেখায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে তাব্রিজ এবং এই শহরের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে তাব্রিজ বাজারের কথা উল্লেখ করেছেন।

এ বাজার নির্মিত হয়েছিল ইসলামী শাসনামলের প্রথম দিকে। বেশ কয়েকবার এ বাজারের সংস্কার করা হয়। সর্বশেষ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় হিজরী দ্বাদশ শতকে। তাব্রিজ বাজারের দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার এবং এর আয়তন দশ লক্ষ বর্গ মিটার। এ বাজারের রয়েছে প্লাস্টারের কারুকাজ করা দর্শনীয় কিছু গম্বুজ ও খিলান। নকশা ও ইটের কারুকাজও অপূর্ব সুন্দর। দোকান-ঘরগুলোর সংখ্যা ও সেগুলোর দরজার সাজ-সজ্জা বা কারুকাজও দর্শকদের অভিভূত করে।

তাব্রিজ শহরের প্রধান চারটি প্রবেশ-পথ রয়েছে তাব্রিজ বাজারের সাথেই। সিল্ক-রোডের ব্যবসায়ীরাসহ অন্য যাত্রী ও জনতা এইসব প্রবেশ-পথ দিয়েই তাব্রিজে প্রবেশ করত। বিভিন্ন আবাসস্থল, সরকারী ভবন, স্থাপনাও গড়ে উঠেছে এই বাজারের আশ-পাশেই। এই বাজারের পাশে গড়ে উঠেছে ২৩টি সরাইখানা, ২৮টি মসজিদ, ৮টি স্কুল, ৫টি গণ-গোসলখানা এবং একটি ব্যায়ামাগার।

তাব্রিজ বাজারের প্রধান গম্বুজের নাম তিইমচেহ মুজাফফরিয়ে। এটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৮৭ সাল বা ১৩০৫ হিজরীতে। এই বাজারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বা কেনা-বেচার প্রাণকেন্দ্র এটি।

তাব্রিজের কার্পেট প্রাকৃতিক উপাদান ও অকৃত্রিম নকশার জন্য বিশ্ব-বিখ্যাত। এসব বিশ্বমানের কার্পেট পাওয়া যায় তিইমচেহ মুজাফফরিয়ে গম্বুজ এলাকায়। এই বাজার এখনও তার অতীত ঐতিহ্য অনেকাংশে ধরে রেখেছে।

সিল্করুটের মাধ্যমে এ বাজার পারস্য সাম্রাজ্যের সঙ্গে চীন ও ইউরোপের সংযোগ সাধন করত। আগেকার সে জৌলুস না থাকলেও প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত বাজারটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। বর্তমানে তাব্রিজ বাজারে রয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টি দোকান ও ৪০টি পেশাজীবী গ্রুপ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৮