মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে স্বাধীনচেতা দেশগুলোর ভূমিকা পালন করা উচিত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহোরকে দেয়া সাক্ষাতে বলেছেন, জাতিগুলোর ওপর যে দুর্বীসহ দিন নেমে এসেছে তা মোকাবেলা করা এবং মানুষের অসহায়ত্বের ব্যাপারে নীরব না থাকার জন্য ইরান সবসময়ই স্বাধীনচেতা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসেছে।
এ সাক্ষাতে তিনি আরো বলেছেন, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তা বৃহৎ শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপেরই ফল এবং তারা সন্ত্রাসীদেরকে এ অঞ্চলের মানুষের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সব দেশেরই দায়িত্ব এ অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন নিভানোর জন্য চেষ্টা করা। মার্কিন নেতৃত্বে কথিত দায়েশ বিরোধী জোট সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরো বলেছেন, দায়েশকে উৎখাতের কোনো ইচ্ছা আমেরিকার নেই বরং তারা এমন পরিকল্পনা আঁটছে যাতে তাকফিরি সন্ত্রাসীরা অবাধে ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্যএশিয়া ও অন্যান্য এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে আমেরিকা। তাদের মতে আমেরিকার কথা ও কাজে মিল না থাকার কারণে বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলগুলোতে গভীর সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার চাপের মুখে ইউরোপের দেশগুলোও নিজেদের স্বার্থকে আমেরিকার লক্ষ্য ও নীতির আলোকে মূল্যায়ন করে থাকে। এ কারণে ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বাধীনতাও আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দুঃখজনক ঘটনাবলীর ব্যাপারে কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, ইউরোপের স্বাধীন দেশগুলো সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, বাহরাইন ও ফিলিস্তিনে তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বললেও এবং ওইসব দেশের সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করলেও বাস্তবে তারা সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে না। এ ছাড়া, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং মানবাধিকার ও গণতন্ত্র ইস্যুতেও জাতিগুলোর সঙ্গে দ্বিমুখী আচরণ করা হচ্ছে এবং এর পেছনে আমেরিকার চেয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোও দায়ী কোনো অংশে কম নয়।
উদাহরণ স্বরূপ, আমেরিকা সিরিয়া সমস্যা সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে তারা ওই দেশটির সংকট বাড়িয়ে চলেছে এবং দায়েশসহ অন্যান্য তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। সিরিয়ার সন্ত্রাসীদেরকে ভালো ও মন্দ এ দু'টি ভাগে ভাগ করেছে এবং একদল সন্ত্রাসীকে মধ্যপন্থী আখ্যায়িত করে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে আমেরিকা ও ব্রিটেন রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদের কথা বলে ইরাকে ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটায়। এর ফলে সেদেশে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিস্তার ঘটেছে এবং তা সিরিয়াকেও গ্রাস করেছে। ইয়েমেন ও বাহরাইনেও আমেরিকা যে সংকট সৃষ্টি করেছে তার প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোরও সমর্থন রয়েছে। তারা সুন্দর সুন্দর কথা ও শ্লোগানের আড়ালে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে আর সৌদি আরব সেই অস্ত্র ইয়েমেন ও বাহরাইনের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৩