সাইয়্যেদ মসজিদ: ইরানের যানজন প্রদেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
-
সাইয়্যেদ মসজিদ, যানজন, ইরান।
'সাইয়্যেদ মসজিদ' ইরানের একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক মসজিদ। যানজন প্রদেশের রাজধানী যানজন শহরে অবস্থিত এই মসজিদটি আসলে একটি মাদ্রাসাও বটে। তবে মসজিদের নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছে স্থাপনাটি।

১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে ফতেহ আলী শাহ কাজারের সন্তানদের মধ্য থেকে কোনো একজনের শাসনামলে এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। নির্মাণ করেছিলেন যিনি এই মসজিদটি তাঁর জীবিতাবস্থায় মসজিদটি বহু নামে পরিচিত ছিল। যেমন মসজিদে দারা, মসজিদে সাইয়্যেদ, মসজিদে সুলতানি এবং এমনকি মসজিদে জুমা নামেও ডাকা হতো।

যানজনের দীনি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে কিংবা মসজিদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে বড় স্থাপনা হিসেবে এই সাইয়্যেদ মসজিদ কমপ্লেক্সের অনন্য ঐতিহাসিকতা সর্বজনবিদিত। আঙিনার চারপাশে ঝুলন্ত বারান্দার সিস্টেমে করা হয়েছে এ মসজিদ। আঙিনাটি লম্বায় ৪৮ মিটার আর প্রস্থে ৩৬ মিটার। আয়তক্ষেত্র আকারের খোলা আঙিনাটি মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ। আঙিনার চারকোণে ঝুলবারান্দার নীচে রয়েছে চারটি রুম। এসব রুমে দীনি মাদ্রাসার ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঝুলবারান্দার ভেতর এবং বাইরের দেয়ালে চমৎকার সব কারুকাজ করা হয়েছে। পুরো বারান্দাতেই রয়েছে টাইলসের কারুকাজ। তার উপর এবং নীচে রয়েছে বিচিত্র ক্যালিগ্রাফি। বিচিত্র রঙের সাহায্যে কুফি এবং সোলস ফন্টে করা কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফিগুলো যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি হৃদয়গ্রাহী।

ফিরোজা রঙের টাইলস দিয়ে সূরা আদ-দাহরের ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে। সোলস লিপিতে পবিত্র এই সূরার ক্যালিগ্রাফি মসজিদের গম্বুজটাকে সৌন্দর্যের পাশাপাশি দিয়েছে অন্যরকম মর্যাদা। এই মসজিদে তৈরি হয়েছেন অনেক বড় বড় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব যাঁদের প্রভাবশালী চারিত্রিক মাধুর্যে প্রভাবিত হয়েছেন মানুষজন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২