ইরানের সুলতানিয়া গম্বুজ: ইউনেস্কোর অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্য (ভিডিও)
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i27697-ইরানের_সুলতানিয়া_গম্বুজ_ইউনেস্কোর_অন্যতম_বিশ্ব_ঐতিহ্য_(ভিডিও)
ইরানের যানজন প্রদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো সুলতানিয়া এবং এর গম্বুজ। ২০০৫ সালে এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। 
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
ডিসেম্বর ০৭, ২০১৬ ১৯:৩০ Asia/Dhaka
  • ইরানের সুলতানিয়া গম্বুজ: ইউনেস্কোর অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্য (ভিডিও)

ইরানের যানজন প্রদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো সুলতানিয়া এবং এর গম্বুজ। ২০০৫ সালে এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। 

যানজন থেকে ৫২ কিলোমিটার পূর্বে বিস্তীর্ণ একটি প্রান্তর রয়েছে। ওই প্রান্তরে ঘাস লতাপাতা থাকার কারণে তাকে ‘চামান সুলতানিয়া’ও বলা হয়। ফার্সি ভাষায় ‘চামান’ মানে হলো ঘাস। এই চারণভূমিটি বহু দেশ থেকে বা দূর দূরান্ত থেকে আসা লোকজনের পছন্দ ছিল। এমনকি হিজরি ষষ্ঠ শতকের শেষ এবং সপ্তম শতকের শুরুর দিকে চীন থেকে এবং প্রাচীন উজবেকিস্তান থেকে যারা ইরানে আসত সেইসব অভিবাসীরাও চামান সুলতানিয়াকেই বেছে নিত বসবাসের সুবিধার জন্য।

ইতিহাসের বিভিন্ন দলিল প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, এই সুলতানিয়াটি ‘আরগুন খান মঙ্গলের’ হাতেই প্রথম নির্মিত হয়েছে। তবে সুলতান মুহাম্মদ বা ‘আলজাইতু’র সময় আরো উন্নয়ন ঘটেছিল এই চামান সুলতানিয়ার। সুলতানিয়ার দক্ষিণ পশ্চিম অংশে ইসলামী আরেকটি বিশাল স্থাপনা দেখা যায়। মণিমুক্ত মুক্তার ঔজ্জ্বল্য যেমন অনেক দূর থেকেও বুঝতে পারা যায় এই স্থাপনাটিও ঠিক তেমনি আপন ঐতিহ্যের স্বাক্ষর রেখেছে যুগ যুগান্তর ধরে। স্থাপনাটির নাম হলো ‘সুলতানিয়া গম্বুজ’। এটা আসলে আলজাইতুর কবর। ইলখানিয়ানদের রাজধানী সুলতানিয়া শহরে ১৩০২ থেকে ১৩১২ খ্রিষ্টাব্দ সময়কাল পর্যন্ত এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই স্থাপনা এখন ইসলামি এবং ইরানি স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।

সুলতানিয়া গম্বুজটি আকারে বেশ বড়ই। গম্বুজের উচ্চতা ৬৬ মিটার আর ব্যস হলো ২৭ মিটার। আট কোণাকৃতি একটি ভিত্তির ওপর গম্বুজটি স্থাপন করা হয়েছে। বিখ্যাত স্থাপত্য শিল্পী সাইয়্যেদ আলি শাহ এই স্থাপনার মূল শিল্পী। 

ইতালির বিশিষ্ট গবেষক সেন পাওলেযি এই গম্বুজ সম্পর্কে বলেছেন: ‘সারা বিশ্বে সম্ভবত সুলতানিয়া গম্বুজ স্থাপনার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন আর কোনো স্থাপনা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এদিক থেকে এই স্থাপনাটির গুরুত্ব অপরিসীম’। 

এ ধরনের মন্তব্য থেকে স্বাভাবিকভাবেই মনে করা যেতে পারে সুলতানিয়া গম্বুজের ভেতর বাইরে কতো চমৎকার কারুকাজ করা হয়েছে। এ কারণেই স্থাপনাটি ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত হবার পাশাপাশি ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক নিদর্শনেরও তালিকাভুক্ত হয়েছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭