ইরানকে দুর্বল করতে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i59226-ইরানকে_দুর্বল_করতে_তেল_উৎপাদন_বাড়ানোর_পদক্ষেপ_নিয়েছে_সৌদি_আরব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এবং দেশটির বিরুদ্ধে ফের একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এক মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ইরানের তেল উৎপাদন ও রপ্তানির পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আসেনি কিন্তু এরই মধ্যে ইরান বিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১৯, ২০১৮ ১৪:৩৯ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এবং দেশটির বিরুদ্ধে ফের একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এক মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ইরানের তেল উৎপাদন ও রপ্তানির পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আসেনি কিন্তু এরই মধ্যে ইরান বিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছে।

ইরানকে হতাশ করার লক্ষ্যে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আমেরিকার সহযোগিতায় সৌদি আরব তেলের উৎপাদন বাড়িয়েছে যার উদ্দেশ্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। সৌদি আরবের তেলমন্ত্রী খালেদ আল ফালিহ বলেন, তেল সংকট নিয়ে উদ্বেগ নিরসনের জন্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ধীরে ধীরে তেল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে।

সৌদি আরব ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার জন্য ২০১৬ সাল থেকে তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমিয়ে রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। অথচ সৌদি সরকার যখনই বাজেট ঘটতির সম্মুখীন হয় তখনই তারা তেলের উৎপাদন কমানোর জন্য ওপেকের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানায় যাতে তেলের মূল্য বাড়ে। বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া ওপেকের সদস্য না হলেও তারা ওপেকের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়।

ওপেকে ইরানের প্রতিনিধি হোসেন কাজেম পুর আর্দেবিলি বলেছেন, "বর্তমান বাজারে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই। তাই ওপেকের উচিত তেল উৎপাদনের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তাতেই যেন বছরের শেষ পর্যন্ত অটল থাকে।"  তিনি আরো বলেন, সৌদি আরব তেলের উৎপাদন বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, ভেনিজুয়েলা ও ইরাক তার বিরোধিতা করবে। সৌদি প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি কিন্তু ওপেকের বৈঠকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আগামী ২২ ও ২৩  জুন ওপেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিষয়টি সবার কাছেই পরিষ্কার যে অর্থনৈতিক কারণে তেলের উৎপাদন বাড়ানো হবে না বিষয়টি বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই তেলের ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইরানের ওপেক বিষয়ক সাবেক মহাসচিব জাওয়াদ ইয়ারজানি বলেছেন, ওপেকের আসন্ন বৈঠকে কর্মকর্তাদের উচিত বর্তমান নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কোনো দেশ যেন তেলের উৎপাদন বাড়াতে না পারে সেজন্য চেষ্টা চালানো। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯