ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযোগ পরাজয় আড়াল করার চেষ্টা
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো জোটের বৈঠকের অবকাশে আবারো পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে ইরান যদি তার নীতিতে পরিবর্তন না আনে তাহলে দেশটি আরো বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়বে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ব্যাপারে ভিত্তিহীন দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, " তেহরানের এটা জেনে রাখা উচিত আন্তর্জাতিক সমাজ তাদেরকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না।"
আমেরিকার সঙ্গে সুর মিলিয়ে সৌদি আরবও বহুদিন ধরে মিথ্যা বক্তব্য তুলে ধরে ইরানভীতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি সৌদি আরব ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের ব্যাপারে সৌদি আরবের এ বিদ্বেষী নীতির কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ সালেহ সাদেকিয়ান বলেছেন, "এ অঞ্চলে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই রিয়াদ তেহরানের সঙ্গে এ ধরণের বিদ্বেষী আচরণ করছে।" তিনি বলেন, "সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান বিরোধী বক্তব্য আসলে বাস্তবতা থেকে পলায়ের চেষ্টা মাত্র। ইয়েমেন থেকে শুরু করে সিরিয়া ও ইরাকে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ সৌদি আরব এভাবে নিজের পরাজয় আড়াল করার চেষ্টা করছে।" কিন্তু এ ধরণের বিদ্বেষী আচরণের কারণে খোদ সৌদি আরবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ইরানের এ বিশ্লেষক মন্তব্য করেন।
সৌদি আরব আসলে ইরানের ব্যাপারে অন্যের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী চলছে। কিন্তু এতে করে কেবল এ দেশটিই আরো বেশি কলঙ্কিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ ও লেখক নওম চমস্কি সৌদি আরবকে উগ্রপন্থা বিস্তারের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, "বাস্তবতা হচ্ছে, উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটিয়ে ওই দেশটিই এখন নিজের পাতা ফাঁদে আটকা পড়েছে।" তিনি বলেন, "সৌদি আরব যতদিন পর্যন্ত এ অঞ্চলে আমেরিকা, ব্রিটেন ও দখলদার ইসরাইলের সেবাদান করে যাবে ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হবে না।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরব নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও অত্যন্ত প্রভাবশালী দেশ বলে মনে করে যদিও তাদের এ ধরণের চিন্তাভাবনা ভুল। কারণ সৌদি শাসকরা মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে ভুল পথে এগোচ্ছে যা তাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর। অথচ ইসলামি ইরান গোলযোগপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে এবং সবাইকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছে। সৌদি কর্মকর্তারা এ অঞ্চলে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারিতা ও অযৌক্তিক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। অথচ এর মাধ্যমে তারা ভুল পথে এগোচ্ছে এবং এতে করে তারা আরো বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়বে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫