ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনে চলছে তীব্র মতপার্থক্য
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i64900-ইরান_বিরোধী_নিষেধাজ্ঞা_বাস্তবায়নে_খোদ_ট্রাম্প_প্রশাসনে_চলছে_তীব্র_মতপার্থক্য
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ব্যাংকিং ও তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে এ নিয়ে মতবিরোধ ততই গভীর হচ্ছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
অক্টোবর ০৯, ২০১৮ ১৪:১৮ Asia/Dhaka

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ব্যাংকিং ও তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে এ নিয়ে মতবিরোধ ততই গভীর হচ্ছে।

মার্কিন সাময়িকী ফ্রাই বেকন জানিয়েছে, ইরান যাতে ব্যাংকখাতে আন্তর্জাতিক সুইফটের আওতায় আসতে না পারে সে জন্য যে চেষ্টা চলছে তা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনে ব্যাপক বিতর্ক ও মতবিরোধ চলছে। হোয়াইট হাউজের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সাময়িকীটি আরো জানিয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি গ্রুপ ইরানকে আন্তর্জাতিক সুইফটের আওতায় রাখার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে ইরানকে উৎসাহিত করা।

মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের আরেকটি গ্রুপ বিশ্বে নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ বা বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন অর্থ লেনদেনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর একক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় এবং এ ধরণের ব্যবস্থার অপব্যবহার করায় বিশ্বের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং তারা এখন ডলারের শৃঙ্খলে আবদ্ধ না থেকে স্বাধীন নীতি গ্রহণের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি পরমাণু সমঝোতা রক্ষারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

বলা হচ্ছে, ইউরোপের এ পদক্ষেপ 'ইউরোপীয় সুইফট' নামে খ্যাতি অর্জন করেছে যা কিনা মার্কিন ডলারের একাধিপত্যের অবসান ঘটানোর সূচনা করেছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও বিশ্বের দেশগুলো মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন ডলার রিজার্ভ করত। কিন্তু আমেরিকা অশুভ রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কাজে ডলারকে অপব্যবহার করায় এখন বহু দেশ ডলারের বিকল্প উপায়ে পণ্য আমদানি রপ্তানির চিন্তাভাবনা করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপ যদি ডলার এবং মার্কিন অর্থব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখে তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশও আমেরিকা থেকে দূরত্ব বজায় রাখা শুরু করবে। যেমনটি রুশ অর্থমন্ত্রী অ্যান্থেনিও সিলভানুন বলেছেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলার বর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি আমেরিকার কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের মোকাবেলায় তারা এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

যাইহোক, এসব পরিস্থিতি আমেরিকার জন্য শুভ পরিণতি ডেকে আনবে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯