ইরানের তেল বিক্রি নিয়ে আমেরিকার নতুন বক্তব্য: শেষ মুহূর্তে পিছু হটার ইঙ্গিত
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i65233-ইরানের_তেল_বিক্রি_নিয়ে_আমেরিকার_নতুন_বক্তব্য_শেষ_মুহূর্তে_পিছু_হটার_ইঙ্গিত
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নিউচিন বলেছেন, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২২, ২০১৮ ১৪:৪০ Asia/Dhaka

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নিউচিন বলেছেন, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের তেল বিক্রির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে বলে ব্যাপক প্রচার প্রপাগান্ডা চালানোর পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী এ কথা জানালেন। ইরানের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কথা স্বীকার করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরো বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ কমিয়ে আনা হলে ওই দেশগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হবে।

অথচ কয়েকদিন আগেও মার্কিন কর্মকর্তারা জোর গলায় দাবি করে আসছিলেন, পাঁচ নভেম্বর থেকে ইরানের তেল বিক্রি ও ব্যাংকিং লেনদেন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। তবে তারা এও বলেছেন, কেবল জরুরি প্রয়োজনে কিংবা তেল ক্রয়কারী সীমিত কয়েকটি দেশকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হবে। এর আগে মার্কিন অর্থ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান 'মেরিল ল্যান্স'র পদস্থ কর্মকর্তা ফ্রান্সিসকো ব্লান্স বলেছিলেন, "আমরা মনে করি ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হলে এর ধাক্কা সামলানো আমাদের জন্য কঠিন হবে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছলে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমরাও রেহাই পাব না।"  

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু দিনের জন্য ইরানের তেল বিক্রির পরিমাণ হয়তো কমে যাবে কিন্তু তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই ক্ষতি ইরান পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার এ নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন যে, ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হলে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে অথবা ইরান সরকার আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।

এদিকে, বিশ্ব বাজারে ইরানের তেল বিক্রি ও ব্যাংকিং খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকী রয়েছে। কিন্তু তারপরও ইরান দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে এবং দেশ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে কোনো সমস্যা হবে না। আগামী কিছু দিনের মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপ ইরানে অর্থ পাঠানোর কাজ শুরু করবে। এর ফলে ইরানের তেল বিক্রি বাবদ পাওনা অর্থ পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা বহুগুণে বেড়ে গেল।

যাইহোক, এখন এটা স্পষ্ট হয়েছে আর্থ-রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা ধ্বংস করে দিতে পারবেন বলে যে আশা করেছিলেন তা অনেকটাই দুরাশায় পরিণত হয়েছে। আমেরিকা ভিত্তিহীন অজুহাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে আসার পর সারা বিশ্বকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের দেশগুলো পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি আমেরিকার প্রভাবমুক্ত হয়ে এমন একটি স্বাধীন অর্থ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করছে যাতে সবার স্বার্থ রক্ষা করা যায়। বিশ্বে নতুন অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এটাকে প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২