মহাকাশ গবেষণায় ইরানের নতুন সাফল্যে আমেরিকার গাত্রদাহ
ইরানে তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আবারো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে তেহরানের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা আরেকবার প্রমাণ করেছে, পরমাণু সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতাকে ঠেকানো যায়নি।
এর আগে ইরানের উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাসেম তাকিজাদে বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষণা করেন, ইসলামি বিপ্লবের ৪০তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানে তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘দুস্তি’ বা ‘ফ্রেন্ডশিপ’কে ভূপৃষ্ঠের কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সাফির’ বা ‘মেসেঞ্জার’ নামক উপগ্রহবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়।
গতমাসে ইরান আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘পায়াম’ বা ‘মেসেজ’কে মহাকাশে নিক্ষেপ করেছিল। কিন্তু যে উপগ্রহবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল সেটি নির্ধারিত গতিতে যেতে না পারায় ‘পায়াম’কে কক্ষপথে স্থাপন করা যায়নি। কিন্তু সে ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ইরান সাফল্যের সঙ্গে কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করল।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ ও মহাকাশ গবেষণা পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দু’টি বিষয় এবং গত ৪০ বছরে এ দু’টি ক্ষেত্রে ইরান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তারা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কিংবা মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর কথা পরমাণু সমঝোতায় বলা হয়নি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে এই দু’টি কাজ করার ক্ষেত্রে ইরানের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।
কিন্তু মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরমাণু সমঝোতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। তবে এ ব্যাপারে রাশিয়া বলছে ভিন্ন কথা। রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করার কিছু নেই।
পশ্চিমা বিশ্ব এমন সময় ইরানের মহাকাশ গবেষণা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরমাণু সমঝোতার লঙ্ঘন বলে দাবি করছে যখন আমেরিকা নিজেই এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে এবং ইউরোপ এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও অনর্থক সময় নষ্ট করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীন দেশ হিসেবে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রয়েছে। ইরানের জনগণ এই অধিকার সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করবে এবং কোনো ধারনের হুমকি, চাপ কিংবা নিষেধাজ্ঞার কাছে আত্মসমর্পন করবে না।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৯
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন
https://www.facebook.com/ParsTodayBangla1