ট্রাম্প আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় পাল্টা পদক্ষেপ নিল ইরানও
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i69450-ট্রাম্প_আইআরজিসিকে_সন্ত্রাসী_সংগঠন_হিসেবে_ঘোষণা_দেয়ায়_পাল্টা_পদক্ষেপ_নিল_ইরানও
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী সেন্টকমকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ ঘোষণা দিল তেহরান।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
এপ্রিল ০৯, ২০১৯ ১৪:৩১ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্প আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় পাল্টা পদক্ষেপ নিল ইরানও

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী সেন্টকমকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ ঘোষণা দিল তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে আইআরজিসি'র বিরুদ্ধে আমেরিকার এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বেআইনি ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। এই পরিষদের বিবৃতিতে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সরকারকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক' হিসেবে অভিহিত করা হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী 'সেন্টকম' এবং এদের প্রতি নির্ভরশীল বা অনুগত অন্য সব বাহিনীকেও সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বিবৃতিতে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী 'সেন্টকম' মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে। যা কিনা ইরানি ও অইরানিদের জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। উদাহরণ হিসেবে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস এবং ইয়েমেনসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে চলমান গণহত্যায় আমেরিকার অংশ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা যায়।

একটি স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথমত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সময় ইরানের সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিলেন যখন আমেরিকার ডেমোক্র্যেট ও রিপাবলিকান দুই দলের বেশিরভাগ নেতাই প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার বিরোধিতা করেছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণা ইরানের জন্য রেডলাইন এবং এর পরিণতির ব্যাপারে তেহরান ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া আমেরিকার জন্যও খারাপ পরিণতি ডেকে আনবে।

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ  আলী জাফারি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ  আলী জাফারি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমেরিকার এই ধৃষ্টতার কারণে এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও মার্কিন সেনারা আর নিরাপদে থাকতে পারবে না।

কিন্তু মার্কিন সরকার কেন আগুন নিয়ে খেলছে এবং এতো বিরোধিতা উপেক্ষা করে কেন এ ধরণের পদক্ষেপ নিল সেটাই এখন প্রশ্ন। এর উত্তরে বলা যায় প্রথমত, আমেরিকা ভালো করেই জানে ইরানের আইআরজিসি জনসমর্থিত অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বাহিনী এবং চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর বিরাট অবদান রয়েছে। এ কারণে আমেরিকা সরাসরি কোনো যুদ্ধে না জড়িয়ে রাজনৈতিক কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা 'আইআরজিসি আতঙ্ক' সৃষ্টির মাধ্যমে এ বাহিনীকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ট্রাম্পের  এ পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় ইরানের ব্যাপারে তারা হতাশ ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। এ অবস্থায় তারা ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করার পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমেরিকার কট্টরপন্থীদের সমর্থন ধরে রাখা এবং দখলদার ইসরাইল ও সৌদি আরবকে খুশী করা। তবে আন্তর্জাতিক অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ লোকদেখানো হতে পারে। এমনকি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ট্রাম্পের সফলতার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯