আইআরজিসিকে আমেরিকার সন্ত্রাসী ঘোষণা বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়া হবে না: ইরান
মার্কিন সরকার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করায় এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ ঘৃণ্য পদক্ষেপ নিয়ে আমেরিকা নিঃসন্দেহে অনেক বড় ভুল করেছে এবং ইরানি জাতি আমেরিকার এ ধৃষ্টতার কঠিন জবাব দেবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী (গতকাল) সোমবার আইআরজিসির সেনা সদস্য ও কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে গত ৪০ বছর ধরে কঠিন ষড়যন্ত্র সত্বেও ইরানের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থেকে বোঝা যায় আমেরিকা ইরানের উন্নয়ন থামিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, "বিপ্লবের পর শত্রুরা গত ৪০ বছর ধরে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থ-রাজনৈতিক চাপ ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা ইরানকে নতজানু করতে পারেনি।"
ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি মার্কিন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আইআরজিসি'র ব্যাপারে আমেরিকার এ ঘোষণা বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদেরকেও সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন তারা যদি সামান্যতম ভুল করে তাহলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণ দিয়ে শুধু যে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয় একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাঙ্গ ইরানের আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মার্কিন ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর উচিত মোড়লিসূলভ আচরণ বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। তিনি বলেন, আমরা আশা করি বৃহৎ শক্তিগুলো পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টির পরিবর্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে।
ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ মোহাম্মদ খাররাজি তার এক ডায়েরিতে লিখেছেন, "আমেরিকা সন্ত্রাসীদের যেসব তালিকা বানায় তার কিইবা মূল্য আছে যেখানে ওই তালিকায় তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশেরও নাম রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ করেছে! আমেরিকা সন্ত্রাসীদের যে তালিকা করেছে তাতে আল কায়দা, তালেবান, দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে। অথচ এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে খোদ আমেরিকা আর্থ-রাজনৈতিকসহ অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। পেন্টাগন যদি সহযোগিতা না করত তাহলে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে উঠত না।"
যাইহোক, আমেরিকা ও ইউরোপের সব ষড়যন্ত্র, চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্বেও সব ক্ষেত্রে ইরানের উন্নতি অব্যাহত রয়েছে আর এটাই আমেরিকার ক্ষোভ ও শত্রুতার প্রধান কারণ। ইরানের জাতীয় পরমাণু প্রযুক্তি দিবসে আমেরিকা ইরানের আইআরজিসির বিরুদ্ধে এ ঘোষণা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানও এ দিবসে পরমাণু ক্ষেত্রে নতুন নতুন গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য তুলে ধরে আমেরিকাকে হতবাক করেছে। শত্রুর মোকাবেলায় পরমাণু ছাড়াও সামরিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ইরানের সাফল্য দেশটিকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০