পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে ইরান ও ইউরোপের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার
-
হেইকো জোসেফ ম্যাস
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো জোসেফ ম্যাস ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আজ তেহরানে এসেছেন। পর্যবেক্ষকরা তার এ সফরকে দু'দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো জোসেফ ম্যাস ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আজ তেহরানে এসেছেন। পর্যবেক্ষকরা তার এ সফরকে দু'দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
প্রথমত, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় এ ব্যাপারে ইউরোপের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, নড়বড়ে পরমাণু সমঝোতার ভবিষ্যত স্পষ্ট করতে হবে।
এ দু'টি বিষয়ে ইউরোপ প্রথম থেকেই একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থা 'ইনসটেক্স' চালু করবে এবং পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে তারা সব কিছুই করবে। এ কারণে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরের একই সময়ে জার্মানির 'ইনসটেক্স' বিষয়ক প্রধান পোর ফিশারও ইরান সফরে আসবেন বলে কথা রয়েছে। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই চুক্তির কিছু কিছু ধারা বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দেয়ায় ইউরোপীয়রা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। প্রায় এক মাস আগে ইরান চুক্তির কিছু ধারা বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দিয়ে এ ব্যাপারে একটি সমাধানে আসার জন্য ইউরোপকে দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছিল।
যাইহোক, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা থেকে বোঝা যায়, নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট ইরান-মার্কিন উত্তেজনা প্রশমনের জন্য তারা ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থা 'ইনসটেক্স' চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফর ছাড়াও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিন জো অ্যাবেও শিগগিরি ইরান সফরে আসছেন। খ্যাতনামা সাংবাদিক জোড দোভিচে সাইতুঙ্গ জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা করে ইরানের জন্য কোনো লাভ হয়নি এবং এই চুক্তির প্রতি সবাই সমর্থন দেবে এমনটি আশা করাও যথার্থ নয়।"
যাইহোক, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো জোসেফ ম্যাসের ইরান সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে ম্যাসের বক্তব্য থেকে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপের কার্যক্রমের ব্যাখ্যা দিয়ে এ চুক্তির ভবিষ্যতকে অন্য কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা ধ্বংসের দায় সবার উপরই বর্তাবে। এটা কেবল ইউরোপের একার দায়িত্ব নয়। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইউরোপ এমন অবস্থায় নেই যে তারা ইরানকে সমালোচনা করতে পারে। এমনকি পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়েও তারা কথা বলতে পারে না। জারিফ বলেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে আমেরিকা। এ অবস্থায় তারা যে আলোচনার কথা বলছে তা লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে মার্কিন চাপ সত্বেও ইরান বর্তমান কঠিন অবস্থা অতিক্রম করতে পারবে বলে জারিফ মন্তব্য করেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০