যুদ্ধ চাই না তবে, তেহরানের ওপর প্রবল অর্থনৈতিক চাপ বহাল থাকবে: পম্পেও
-
মাইক পম্পেও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ইরান বিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ওয়াশিংটনের অন্যায় নীতি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য তিনি তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গতকাল রবিবার ফক্স নিউজ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে ওমান সাগরে তেল ট্যাংকারে হামলার জন্য আবারো ইরানকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তেহরানের ওপর প্রবল অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই। তবে দেশটির ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদিও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে পেরেছেনে কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও জোর দাবি করেছেন তেল ট্যাংকারে হামলার সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি কি করতে চান সেটাই এখন প্রশ্ন। পম্পেও সিবিএস টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারেও বলেছেন, "আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না কিন্তু মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।" তিনি ইরান বিরোধী চাপ বহাল রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না বলে এমন সময় এ দাবি করলেন যখন মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধে লিপ্ত। তবে সামরিক যুদ্ধ না চাওয়ার কারণ হচ্ছে মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে তেলের বাজারে এর ধ্বংসাত্মক পরিণতির বিষয়ে ভালভাবে অবহিত আছেন। খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড ফারওয়াম আটলান্টিক সাময়িকীকে লেখা এক নিবন্ধে বলেছেন, "যারা ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সমর্থক ছিল তাদের এটা জেনে রাখা উচিত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণত হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর।"
কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধারণা সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে এবং তাদেরকে আলোচনার টেবিলেও আনা যাবে। তবে ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতিতে পরস্পর বিরোধী অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বেশ ক'বার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি তার টেলিফোন নম্বর ইরানকে অবহিত করার জন্য সুইস দূতাবাসকে দিয়েছেন যাতে ইরানের কর্মকর্তারা তাকে অন্তত একটা ফোন করেন। এ ছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেকে ইরান-মার্কিন সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেন এবং এ লক্ষ্যে অ্যাবের তেহরান সফরকে তিনি স্বাগত জানান। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আমেরিকার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে অতীত আলোচনার তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি আমরা করব না।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা ও ইরানভীতি ছড়ানোর পাশাপাশি ইরানকে মোকাবেলার জন্য আরব দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এভাবে ট্রাম্প একদিকে হুমকি অন্যদিকে আলোচনার কথা বলছেন যা পরস্পর বিরোধী। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭