ইরানকে নিয়ে চরম সংকটে: কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i71435-ইরানকে_নিয়ে_চরম_সংকটে_কী_করবে_কিছুই_বুঝতে_পারছে_না_আমেরিকা
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আমেরিকার অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত হওয়ায় তেহরানের ব্যাপারে চরম হতাশা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে ওয়াশিংটন। তারা এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুন ২৩, ২০১৯ ১২:১০ Asia/Dhaka
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আমেরিকার অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত হওয়ায় তেহরানের ব্যাপারে চরম হতাশা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে ওয়াশিংটন। তারা এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল (শনিবার) ইরানের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বা প্রলাপ বকেছেন। তিনি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরিবর্তে বরং ইরানে তাদের হামলা করার ইচ্ছা ছিল। ট্রাম্প একদিকে আবারো বিনা শর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন আবার অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা থেকে বোঝা যায়, ড্রোন ভূপাতিত করার জবাব কিভাবে দেয়া হবে তা নিয়ে হোয়াইট হাউজ কঠিন সংকটে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। ট্রাম্পের ধারণা এভাবে চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠানোর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তা প্রত্যাখ্যান করায় ট্রাম্প প্রশাসনের সব হিসাব নিকাশ ভণ্ডুল হয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছা ছিল ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার মাধ্যমে এমনভাবে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে পরমাণু ও অপরমাণু বিষয়ে আমেরিকার নির্দেশ মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করানো যায়। কিন্তু ট্রাম্পের সে প্রত্যাশা তো পূরণ হয়নি বরং ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে তাতে ট্রাম্প হতভম্ব হয়ে এখন শুধু প্রলাপ বকছেন। ইরানের এ পদক্ষেপের ফলে এখন ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় যুদ্ধ অথবা বর্তমান অচলাবস্থা মেনে নিয়েই তাকে চলতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে ইরানে হামলার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। এমনকি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে হামলার জন্য মার্কিন জঙ্গি বিমান পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে ছিল। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও চরম পরিণতির কথা ভেবে ট্রাম্প তখনই সিদ্ধান্ত পাল্টে ইরানে হামলা না চালানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকার সেনা বহনকারী সামরিক বিমান ভূপাতিত না করায় তেহরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু ইরান তার শক্তিমত্বা দেখানোর পরও আমেরিকার যুদ্ধবাজ কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি আমেরিকার ভাবমর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি বহাল রাখেন।

বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ভাল করেই জানেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর জন্য তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে। এ কারণে তারা সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টিকেই একমাত্র পন্থা বলে মনে করছেন। এ লক্ষ্যে তারা তেলবিক্রি বন্ধ ও ব্যাংকখাতে নিষেধাজ্ঞাসহ সবরকম পন্থাই অবলম্বন করেছেন। এ অবস্থায় আরো নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েও তারা ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তেহরানের জন্য কোনো বার্তা নয় বরং তা হতাশাগ্রস্ত যুদ্ধবাজ মার্কিন কর্মকর্তাদেরকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা মাত্র। এ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী তুলসি গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "ইরানের ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনাগুলো খুবই শিশুসুলভ ও অনুপযুক্ত। তিনি ট্রাম্পকে তার নীতিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়ে দেরি হওয়ার আগেই পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।"

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩