পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘে দেয়া রাশিয়ার প্রস্তাবে যা রয়েছে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i72386-পারস্য_উপসাগরীয়_অঞ্চলে_নিরাপত্তা_রক্ষায়_জাতিসংঘে_দেয়া_রাশিয়ার_প্রস্তাবে_যা_রয়েছে
বিদেশি সামরিক উপস্থিতি এবং সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টিতে এর নেতিবাচক ভূমিকার কারণে রাশিয়া যৌথভাবে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় বেশ কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুলাই ৩০, ২০১৯ ১৩:১১ Asia/Dhaka
  • মিখাইল বোগদানোভ
    মিখাইল বোগদানোভ

বিদেশি সামরিক উপস্থিতি এবং সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টিতে এর নেতিবাচক ভূমিকার কারণে রাশিয়া যৌথভাবে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় বেশ কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।

রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানোভ গতকাল (সোমবার) জাতিসংঘে এ পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেন। এতে পর্যায়ক্রমে এবং সবার অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মস্কো জানিয়েছে এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটেও প্রকাশিত ওই প্রস্তাবের সনদে আরো বলা হয়েছে, প্রথমে বহুপক্ষীয় আলোচনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হবে। এরপর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বিস্তার ও সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। ওই সম্মেলনে এ অঞ্চলে সরবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নীতিমালা নির্ধারণ এবং চুক্তিতে উপনীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 মস্কোর এ প্রস্তাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সামরিক, রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা জোরদারের পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, সামরিক অভিযান পরিচালনা, বিমান উড্ডয়ন, গোপন নয় এমন সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন, একে অপরের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটানো কিংবা তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা দীর্ঘ দিন ধরে এ অঞ্চলের ঘটনাবলীতে হস্তক্ষেপ করে আসছে এবং ইরানভীতি ছড়ানোর মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের উপস্থিতিকে জায়েজ করার এবং ইরান বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া তেহরানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গের্সেই ল্যাভরভ গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি ইরান এমন একটি দেশ যে কিনা আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এবং যেকোনো ঘটনার দায় ইরানের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সংকটের কোনো সুরাহা হবে না।

বর্তমানে আমেরিকা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক উস্কানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য যখনই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখনই আমেরিকা বিরোধিতা করেছে এবং বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।

ইরান বহুবার বলেছে, এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়েই আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিধান করতে হবে এবং এ অঞ্চলের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে হবে। এ লক্ষে ইরান বেশ কিছু প্রস্তাবও তুলে ধরেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, "ইরানই এ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।" পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাশিয়াও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের প্রচেষ্টার প্রতি রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে।#       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০