সিরিয়ায় তুরস্কের হামলা: উত্তেজনা হ্রাসে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i74561-সিরিয়ায়_তুরস্কের_হামলা_উত্তেজনা_হ্রাসে_ইরানের_কূটনৈতিক_তৎপরতা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সেদেশের উত্তরাঞ্চলে তুর্কি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দামেস্ক এর উপযুক্ত জবাব দেবে। সিরিয়া সফররত ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা ফালিহ আল-ফাইয়াজের সঙ্গে রাজধানী দামেস্কে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আসাদ এই মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট আসাদ তুরস্কের সামরিক হামলাকে প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
অক্টোবর ১৮, ২০১৯ ১২:২৬ Asia/Dhaka
  • সিরিয়ায় তুরস্কের হামলা: উত্তেজনা হ্রাসে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সেদেশের উত্তরাঞ্চলে তুর্কি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দামেস্ক এর উপযুক্ত জবাব দেবে। সিরিয়া সফররত ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা ফালিহ আল-ফাইয়াজের সঙ্গে রাজধানী দামেস্কে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আসাদ এই মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট আসাদ তুরস্কের সামরিক হামলাকে প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের নির্দেশে দেশটির সেনাবাহিনী সিরিয়ার কুর্দিদের বিরুদ্ধে বড় ধরণের সামরিক অভিযান শুরু করে। নিজের নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের তৃতীয় সামরিক অভিযানকে 'শান্তি উৎস' নাম দেয়া হয়েছে। তুরস্ক সরকার মনে করে সিরিয়া ও তুরস্কের সীমান্ত এলাকা নিরাপদ নয় এবং এ কারণে তারা নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে।

কুর্দি সমস্যা দশকের পর দশক ধরে চলে আসছে। তুরস্ক এবং সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠী পিকেকের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালে আঙ্কারা ও দামেস্ক ‘আদানা চুক্তি’ সই করেছিল। ওই চুক্তিতে কুর্দিদের তৎপরতা রোধের বিষয়ে একমত হয়েছিল তুরস্ক ও সিরিয়া। ওই চুক্তিতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে যে কোনও সীমান্ত সন্ত্রাস মোকাবিলা করার কথা বলা হয়েছিল। সিরিয়া ও তুরস্কের ওই চুক্তিকে ইরান, রাশিয়াসহ সব দেশ স্বাগত জানিয়েছিল। ওই অঞ্চলে যে কোনো উত্তেজনা নিরসনে আদানা চুক্তি এখনো সর্বোত্তম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গতকাল (বৃহস্পতিবার) এক টেলিফোন সংলাপে জোর দিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে সংলাপ হওয়া জরুরি। এই সংলাপে তুরস্ক এবং সিরিয়ার সরকারের পাশাপাশি কুর্দিদের অংশগ্রহণও জরুরি বলে দুই মন্ত্রী মত ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিরিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের সামরিক আগ্রাসনের ব্যাপারে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মোয়াল্লেম এবং ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আল হাকিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এসব সংলাপে সিরিয়ার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সব দেশই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে অন্য দেশের উচিত সন্ত্রাসকবলিত সিরিয়াকে সহযোগিতা করা। তুরস্কের উচিত এ ইস্যুতে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা। সবারই উচিত অন্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা। কিন্তু তুরস্ক সামরিক অভিযান চালিয়ে সম্মান জানানোর নীতিকে পদদলিত করেছে এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্টও এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হয়েছে। যার ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আমেরিকা, ইসরাইল, সৌদি আরব ও তুরস্ক উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে দিয়ে সিরিয়ার ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর এখন সরাসরি তুরস্কের সামরিক অভিযানকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। এ অবস্থায় তুরস্ক ও সিরিয়া সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮