ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাল আইআরজিসি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i75122-ইরান_বিরোধী_মার্কিন_নিষেধাজ্ঞার_নিন্দা_জানাল_আইআরজিসি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সেদেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ আরো ক'জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৯, ২০১৯ ১৫:৩০ Asia/Dhaka
  • ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাল আইআরজিসি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সেদেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ আরো ক'জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে প্রমাণিত হয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সঠিক পথে রয়েছে যারা কিনা শুধু ইরানিদের জন্যই নয় একইসঙ্গে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য সন্তুষ্টি, আস্থা ও গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মুসলমানদের শত্রুদের সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ ছাড়া, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে হোয়াইট হাউজের অচলাবস্থা ও হতাশার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

হোয়াইট হাউজ আন্তর্জাতিক সব আইন কানুন লঙ্ঘন করে গত ৪ নভেম্বর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমেরিকা এমন সময় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যখন ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সাদ্দামের চাপিয়ে দেয়া প্রতিরোধ যুদ্ধে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিল এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়েও তারা শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও হুমকি মোকাবেলায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, ইরানের জনগণের দৃঢ় ইচ্ছা শক্তির কাছে হোয়াইট হাউজের ব্যর্থতাকে আড়াল করা। তবে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পেছনে তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইরানকে দুর্বল করা। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমেরিকা তিনটি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টি করে এ অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বে ইরান বিরোধী সামরিক জোট গঠন করা।

দ্বিতীয়ত উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে ইরানের সঙ্গে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যকার প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিবেশকে নষ্ট করা। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তোলার বিষয়ে ইরান এরই মধ্যে প্যাকেজ প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইরান বিরোধী পদক্ষেপকে অনেক বড় করে তুলে ধরা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের নীতিতে কখনোই প্রভাব ফেলতে পারেনি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি সেনা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেছেন, শত্রুরা এটা বুঝতে পেরেছে তাদের মোকাবেলায় ইরান পূর্ণ প্রস্তুত। তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করবে এবং নিজ দেশের জনগণ ও ভূমি রক্ষায় তারা কোনো ছাড় দেবে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ইরান এ ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের সব দেশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। আর এটাই আমেরিকার জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তারা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা কিংবা ইরানবিরোধী প্রচার চালিয়ে এ দেশগুলোর মধ্যকার সহযোগিতাকে বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে গত ৪১ বছরের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমেরিকা আজ পর্যন্ত কোনো লক্ষ অর্জন করতে পারেনি। #      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯