দূতাবাসের সামনে ইরাকিদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ আমেরিকার জন্য সতর্কবার্তা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i76362-দূতাবাসের_সামনে_ইরাকিদের_বিক্ষোভ_ও_অগ্নিসংযোগ_আমেরিকার_জন্য_সতর্কবার্তা
আমেরিকা ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবির সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর ইরাকের ক্ষুব্ধ জনগণ বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আমেরিকার পতাকায় অগ্নি সংযোগ করেছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জানুয়ারি ০১, ২০২০ ১৫:১৫ Asia/Dhaka
  • দূতাবাসের সামনে ইরাকিদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ আমেরিকার জন্য সতর্কবার্তা

আমেরিকা ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবির সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর ইরাকের ক্ষুব্ধ জনগণ বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আমেরিকার পতাকায় অগ্নি সংযোগ করেছে।

আমেরিকা গত রবিবার সন্ধ্যায় ইরাকের আল আনবার প্রদেশে অবস্থিত হাশদ আশ শাবি'র সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালায় এবং এতে বহুসংখ্যক সেনা সদস্য হতাহত হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল ইরাকের হাজার হাজার মানুষ মার্কিন দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জানায়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হাশদ আশ-শাবির সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ইরাকের জনগণের প্রতিবাদ কয়েকটি দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রথমত, এতে প্রমাণিত হয়েছে বিদেশিরা যেকোনো আগ্রাসন চালালে ইরাকের জনগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হবে। গত দুদিন ধরে ইরাকের জনগণ মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে আসছে এবং ইরাকের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ইরাকের জনগণের এ বিক্ষোভ থেকে বোঝা যায়, তাদের মধ্যে মার্কিন বিরোধী চেতনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা এমন সময় মার্কিন দূতাবাস চত্বরে হামলা ও পতাকায় অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে যখন ওই দূতাবাস কঠোর প্রহরাধীনে ছিল। জনগণ নজিরবিহীনভাবে এতোটাই ফুঁসে উঠেছিল যে তারা দূতাবাসের দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলে এবং একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া, জনতা সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং দূতাবাসের ভেতরে পাথর নিক্ষেপ করে ও বাইরে আগুন ধরিয়ে দেয়। জনরোষের কবলে পড়ে দূতাবাস কর্মী ও নিরাপত্তা রক্ষীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

তৃতীয়ত, আমেরিকা ও তার মিত্ররা জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবির বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়েও জনগণকে এই সংগঠন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি বরং বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে ইরাকের জনগণ হাশদ আশ-শাবিকে পছন্দ করে এবং তাদের কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে।

চতুর্থত, আমেরিকা এটা ভাল করেই বুঝতে পেরেছে যে, ইরাকের জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার ফল স্বরূপ মার্কিন সেনাদেরকে সেদেশ ত্যাগ করতে হতে পারে। বিশেষ করে জনগণের অব্যাহত প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মার্কিন বিরোধী চেতনা পার্লামেন্টের ওপরও প্রবল চাপ সৃষ্টি করবে যার ফলে সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের পথ সুগম হবে।

যাইহোক, ইরাক বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ রেজা কাজভিনি গারবি বলছেন, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ, তাদের অবস্থান কর্মসূচি, দূতাবাসের দেয়ালে ইরাকি পতাকা উত্তোলন, মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে যা ছিল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি ক্ষুদ্র জবাব।#    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১