বিমান দুর্ঘটনায় ইরান সরকার তার সকল দায়িত্ব পালন করবে: প্রেসিডেন্ট রুহানি
-
প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইউক্রেনীয় বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন: তাঁর সরকার এ ব্যাপারে নাগরিক অধিকার ও আইন অনুযায়ী সকল দায়িত্ব পালন করবে। তিনি সাম্প্রতিক ওই বিমান দুর্ঘটনার জন্য এ অঞ্চলে মার্কিন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে দায়ি করে বলেছেন: বিমান দুর্ঘটনায় ইরানসহ বিদেশি যেসব নাগরিক নিহত হয়েছে তাদের সকল দায়দায়িত্ব ইরান সরকারের। রুহানি আরও বলেন: ওই দুর্ঘটনার সার্বিক তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরের কাছে ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ যাত্রীর সবাই নিহত হয়। নিহত যাত্রীদের মধ্যে ১৪৭ জন ছিলেন ইরানি যাদের অনেকেরেই কানাডা ও ব্রিটেনের পাসপোর্ট ছিল।এই ঘটনার পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের এক বিবৃতিতে ভুলবশত ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়,বুধবার মধ্যরাতের পরপরই ইরাকে মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর ঘাঁটি আইন আল-আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর ইরানের আকাশসীমার আশপাশে মার্কিন জঙ্গিবিমানের আনাগোনা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এ সময় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারগুলোতে অসংখ্য শত্রু বিমান ধরা পড়ে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনাকারী সৈন্যরা অত্যন্ত স্পর্শকাতরতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। এ রকম একটি সংকটময় ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে ইউক্রেনের ৭৫২ ফ্লাইটটি ইমাম খোমেনী (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড্ডয়ন করে এবং টার্ন নেয়ার সময় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র একটি সামরিক স্থাপনার আকাশে চলে আসে। এ সময় রাডারে বিমানটিকে শত্রুর জঙ্গিবিমান বলে প্রতীয়মান হয় এবং মানবীয় ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়।
মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শাহাদাতের পর আমেরিকার সঙ্গে অজানা যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক আবহে প্রবেশ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। যাত্রীবাহী বিমানের হতভাগ্য আরোহীরা সেই টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন যা তাদের কারো কাম্য ছিল না। তবে এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাগাড়ম্বর বিশেষ করে ইরানের বিভিন্ন স্পটে হামলা চালানোর হুমকিসহ ইরানের চারপাশে মার্কিন সন্ত্রাসী জঙ্গি বিমানের আনাগোণা বৃদ্ধির ঘটনাকেও দায়ি বলে মনে করে।
নাসির মাহমুদ/পার্সটুডে/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।