নির্বাচনে জিতলে ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতি কী হবে- ব্যাখ্যা দিলেন উপদেষ্টা
মার্কিন সরকার ২০১৮ সালের মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির জন্য দেশটির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও প্রথম দিকে দাবি করেছিলেন তিনি পরমাণু সমঝোতার বিষয়বস্তুতে সংস্কার করতে চান কিন্তু এখন ইরানের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের আসল লক্ষ্য উদ্দেশ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও'ব্রায়েন দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই বলেন যেকোন উপায়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হলে ইরানের বিরুদ্ধে এত বেশি কঠোর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে যাতে তেহরান শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় এবং ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতাকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলবেন। কেননা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, পরমাণু সমঝোতায় কিছুই অর্জিত হয়নি। তিনি আরো দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান পরমাণু কার্যক্রম আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওয়াশিংটন চায় ইরান সরকার শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরে আসুক এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে দেশটি সীমিত আকারে পরমাণু কার্যক্রম চালাক। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ ব্যাপারে আরো বলেছেন, আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিসরে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে হয়তোবা আলোচনা হতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি থেকে ইরানকে পুরোপুরি বিরত রাখা যাতে দেশটি শিল্প, চিকিৎসা, কৃষিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে না পারে। তারা নামমাত্র ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি চালানোর সুযোগ দেবে তাও আবার আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে যা কোনোভাবেই ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকেও ইরানকে বিরত রাখার কথা বলেছেন। তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় এ বিষয়টিও উত্থাপন করা হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে যাওয়ার জন্য ইরানকে বলা হবে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরো বলেছেন, তার ভাষায় ইরানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আলোচনার বিষয় হবে না। অবশ্য তার দৃষ্টিতে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠনগুলোকে অর্থাৎ লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের ইসলামি হিজাদ আন্দোলন ও হামাস এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদেরকে যে সহযোগিতা করছে সেটাই সন্ত্রাসবাদ।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ট্রাম্প প্রশাসনের আসল উদ্দেশ্য কেবেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সীমিত করা নয় একইসাথে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। অবশ্য মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যেসব কথা বলেছেন তা এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পাম্পেও'র দেয়া ১২টি প্রস্তাবেরই অনুরূপ। এখানে নতুনত্ব কিছুই নেই। এ বেআইনি আবদার পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়াশিংটনের অন্যায় ও অযৌক্তি দাবি মেনে নিতে তেহরানকে বাধ্য করা।
কিন্তু ইসলামী ইরান মার্কিন সর্বোচ্চ চাপের মোকাবেলায় প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সকল ষড়যন্ত্র ও প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ করে দিয়েছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮