মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতিকর প্রভাব উপেক্ষা
‘জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির নীরবতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
-
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জাভেদ রেহমান
ইরানি জনগণের ওপর আমেরিকার অবৈধ নিষেধাজ্ঞার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের ব্যাপারে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি যে উদ্দেশ্যমূলক নীরবতা অবলম্বন করছেন তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরানের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ প্রধান ও মানবাধিকার সংস্থার সচিব কাজেম গরিবাবাদি এ নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা ইরানি জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা বললেও মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি বিস্ময়কর নীরবতা পালন করছেন।
গরিবাবাদি রোববার আরো বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের বহু রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জাভেদ রেহমান এ ব্যাপার নীরবতা পালন করায় তার নিরপেক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আইএইএ’তে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গরিবাবাদিকে সম্প্রতি ইরানের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ প্রধান ও মানবাধিকার সংস্থার সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ইরানের এই সিনিয়র কূটনীতিক বলেন, জাভেদ রেহমান ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন দেয়ার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেন না এবং ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন। আর তিনি তার প্রতিবেদনে বেশিরভাগ ওইসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দেয়া তথ্য ব্যবহার করেন। অথচ ইরানি জনগণের প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে তার চরম অনীহা।
গরিবাবাদি আরো বলেন, কাজেই একথা বুঝতে আর কারো বাকি থাকে না যে, বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জাভেদ রেহমানকে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে; তবে এ অবস্থার অবসান হওয়া উচিত।
জাতিসংঘের একদল নিরপেক্ষ বিশ্লেষক ও প্রতিনিধি কয়েকদিন আগে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। তারা বিষয়টিকে ইরানি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।#
পার্সটুডে/এমএমআই/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।