রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপ ডিজেবল করার প্রতিবাদ
প্রিয় মহোদয়, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে আজকের এ চিঠি লিখছি। লিখতে গিয়ে বারবার ভুল হচ্ছে, কীবোর্ডের ভুল জায়গায় চাপ দিচ্ছি। কী লিখব, কিভাবে লিখব কিছুই বুঝতে পারছি না। বেদনা আর হতাশা ক্রমেই আমাকে নিমজ্জিত করছে।
৩১ আগস্ট (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের আশরাফুর রহমান ভাই প্রিয়জনের মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে জানালেন যে, রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ডিজেবল করে দিয়েছে। নিজেও ওই গ্রুপে গিয়ে তা নিশ্চিত হলাম। এরপর থেকে মনটাকে কোনোক্রমেই শান্ত করতে পারছি না।
সারাটা দিন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপ ডিজেবল করে দেয়া হয়েছে। আমি যতদূর জানি, গ্রুপের এডমিন থেকে তা খুলে দেয়ার আবেদন করা হয়েছে এবং তা বিবেচনা করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু একদিন চলে গেলেও এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। মানে এখনো ফেসবুক গ্রুপ খুলে দেয়া হয়নি।
কিন্তু কেন রেডিও তেহরানের ফেসবুক ডিজেবল করা হল? ফেসবুকে তো কত খারাপ কাজ, অপকর্ম চলে- সেসব বন্ধ করা হয় না কেন? সেসব না করে রেডিও তেহরানের গ্রুপ কেন বন্ধ করা হয়েছে? করা হয়েছে, কারণ রেডিও তেহরান ইসলামের কথা বলে, ন্যায়ের কথা বলে। মুসলিমদের কথা বলে, নিপীড়িত মানুষের কথা বলে।
আমার কাছে মনে হয়, এটি ৯৪ হাজার মানুষকে স্তব্ধ করে দেয়ার চেষ্টা। আমরা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের এমন ব্যবহারের নিন্দা জানাই। আর দাবি জানাই, অনতিবিলম্বে যেন রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপ খুলে দেয়া হয়।
আমরা রেডিও তেহরানের শ্রোতারাও এ ব্যাপারে সঠিক ভূমিকা নিতে পারিনি। ফেসবুকের এহেন ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে পারিনি। এটি সত্যিই লজ্জার। আমরা কতশত শ্রোতা, কিন্তু ফেসবুকে এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে সাহস পাইনি। রেডিও তেহরানের দুঃসময়ে এগিয়ে আসিনি। আমরা সবসময় ভয়ে থাকি, ফেসবুকের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে যদি ইসলামের পক্ষে বলে ফেলি! তবে আমাদের একজন শ্রোতা (শরিফা আক্তার পান্না, অর্থ-সম্পাদক, আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব, কিশোরগঞ্জ) মেসেঞ্জার গ্রুপ প্রিয়জনে আমার একটি লেখা কপি করে তাদের ক্লাবের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছেন। অতি ক্ষুদ্র প্রতিবাদ, তবু সেটা ভালো লেগেছে।
একথা সত্যি যে, বর্তমানে ইসলামের পক্ষে, মুসলমানদের পক্ষে, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলা খুবই বিপজ্জনক। ইরান সেই বিপদে আছে। তাকে মোকাবেলা করতে হয় বিধর্মী শক্তির সাথে, মোকাবেলা করতে হয় স্বধর্মের ভণ্ডদের সাথে। তারপরও শতপ্রতিকূলতা অতিক্রম করে রেডিও তেহরান এগিয়ে যাবে, সেটাই কাম্য।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ শাহাদত হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ-২৩০০, বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।