জটিল নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে বিভক্তি বেড়েছে
লেবাননের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: ১২তম দফার চেষ্টাও ব্যর্থ
লেবাননের জাতীয় সংসদ ১২তম দফায়ও দেশটির জন্য একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে গত কয়েক মাস ধরে যে রাজনৈতিক অচল অবস্থা বিরাজ করছে তার অবসান আপাতত হচ্ছে না। গতকাল (বুধবার) লেবাননের জাতীয় সংসদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য অধিবেশনে বসে। কিন্তু পারস্পরিক মতবিরোধ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ কঠিন করে তোলে।
গত অক্টোবরে সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিন্তু তারপর থেকে এ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। লেবাননের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাবেক অর্থমন্ত্রী জিহাদ আজুর এবং মারাদা পার্টির নেতা স্লেইমান ফ্রাঙ্গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লেবাননের জাতীয় সংসদে ১২৮টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য দরকার ৮৬ জন সংসদ সদস্যের ভোট।
১৯৪৩ সালের একটি চুক্তির কারণে লেবাননে জটিল রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এ চুক্তির আওতায় দেশটির খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে প্রেসিডেন্ট, সুন্নি মুসলমান থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং শিয়া মুসলমান থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। এছাড়া পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এবং ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী গ্রিক অর্থডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে নির্বাচিত হতে হবে। আর সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অবশ্যই দ্রুজ সম্প্রদায় থেকে নিয়োগ লাভ করবেন। এই কোটা সিস্টেমের কারণে জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে নানা বিভক্তিতে রয়েছেন। এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের যে দুই প্রতিদ্বন্দী রয়েছেন তার মধ্যে সমর্থন দিচ্ছেন মূলত দ্রুজ সম্প্রদায়ের এমপিরা।#
পার্সটুডে/এসআইবি/১৫