আমেরিকার প্রকাশ্য সমর্থনেই গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল
দখলদার আল কুদস শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ধারাবাহিকতায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা গতকাল গাজা উপত্যকার উত্তরে জাবালিয়া ক্যাম্পে বোমাবর্ষণ করেছে। জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইহুদিবাদীদের বোমা হামলায় অন্তত দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক শহীদ এবং আরো বহু আহত হয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে গত ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধমূলক হামলার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩,৫৪২ জন শিশু এবং ২,১৮৭ জন মহিলাসহ ৮,৫২৫ জন শহীদ হয়েছে এবং প্রায় ২২০০০ ব্যক্তি আহত হয়েছে।
ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীর সামরিক আগ্রাসনের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এই অবৈধ সরকার বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকে তার এজেন্ডায় রেখেছে। ইহুদিবাদী শাসক এর আগে গাজার আল-মুআমদানি হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়েছিল এবং এই বর্বরোচিত ও পাশবিক হামলায় কমপক্ষে ৫০০ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ৬০০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছিল।
ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠী গাজার জনগণের বিরুদ্ধে যা করছে তা একটি যুদ্ধাপরাধের স্পষ্ট উদাহরণ। এ কারণে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চিলি এবং কলম্বিয়ার মতো দেশগুলো তেল আবিবে তাদের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে এবং বলিভিয়াও ঘোষণা করেছে যে তারা ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে গাজার বিরুদ্ধে পাশবিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড-এই দুই দেশের সঙ্গে মিলে আমেরিকা এ পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইহুদিবাদী শাসকের অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব গৃহীত হতে বাধা দিয়েছে। ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর অপরাধযজ্ঞের প্রতি আমেরিকার সমর্থনের আরেকটি নিদর্শন হল যে মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজায় যেকোনো যুদ্ধবিরতির বিরুদ্ধে, কারণ এই যুদ্ধবিরতি ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর কোনো উপকারে আসবে না।
আরেকটি বিষয় হল, উত্তর গাজার জাবালিয়া ক্যাম্পে ইহুদিবাদী সেনাবাহিনীর গতকালের পাশবিক হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন ঘোষণা করেছেন যে তিনি তৃতীয়বারের মতো অধিকৃত অঞ্চল পরিদর্শন করবেন।ইসরাইলে তার ঘন ঘন সফরের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে গাজার যুদ্ধের প্রকৃত ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দায়িত্বে রয়েছে।
এদিকে ইহুদিবাদী অন্তর্বর্তী সরকারের যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বুধবার সকালে আবার ফোনে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সাথে গাজা উপত্যকায় হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। ব্লিঙ্কেন এই কল সম্পর্কে বলেছেন যে তিনি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা এবং ইহুদিবাদী বন্দীদের মুক্তির চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে হারজোগের সাথে কথা বলেছেন। .
ব্লিঙ্কেনের এই মন্তব্য থেকে এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে জেরুজালেমের দখলদার শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক গাজার জনগণের ওপর গণহত্যার সঙ্গে আমেরিকা এবং কিছু ইউরোপীয় দেশের হাত জড়িত এবং এই দেশগুলো গাজার অপরাধের অংশীদার। এ প্রসঙ্গে গতকাল ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “ইসলামী বিশ্বের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, গাজার ভাগ্য নির্ণায়ক ইস্যুতে তারাই নেমেছে যারা নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধেে দাঁড়িয়েছিল। আর তারা ছিল আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড।"#
পার্সটুডে/এমবিএ/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।