মুসলমানদের চিরশত্রু ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা: লুকোচুরির অবসান
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) এ ব্যাপারে চুক্তি সই হবে এবং দু’পক্ষই রাষ্ট্রদূত পাঠাবে।
তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিন আলী বিলদিরিম রাজধানী আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ফলে গাজা উপত্যকা থেকে অবরোধ উঠে যাবে এবং গাজা অভিমুখে ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলি হামলায় নিহতদের পরিবারগুলোকে ২ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর এ ধরণের বক্তব্যকে রাজনৈতিক তামাশা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০১০ সালে গাজা অভিমুখে তুরস্কের ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলি কমান্ডো বাহিনীর হামলার পর তেলআবিব ও আঙ্কারার মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। ইসরাইলি ওই হামলায় ৯ জন তুর্কি নাগরিকসহ ৭০ জন মানবাধিকার কর্মী হতাহত হয়েছিল। সে সময় তুরস্ক সরকার দাবি করেছিল, যতদিন পর্যন্ত গাজায় অবরোধ থাকবে ততদিন পর্যন্ত তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এ বক্তব্যকে সে সময় ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য মুসলমানরা ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছিল। এমনকি আরবের কোনো কোনো মহল এরদোগানকে বীর হিসেবে অভিহিত করেছিল।
কিন্তু এখন দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তুরস্কের ভণ্ডামি ও নেতিবাচক পররাষ্ট্র নীতির বিষয়টি আবারো সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। দ্বিপক্ষীয় মতভেদ দূর করার জন্য আমেরিকার উদ্যোগে গত মে মাস থেকে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার আপোষ আলোচনা শুরু হয়।
ইসরাইল ও তুরস্ক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা পর থেকেই রাজনৈতিক মহল পুরোপুরি তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে সন্দিহান ছিল। কারণ ইসরাইল ও তুরস্কের স্বভাব চরিত্র, লক্ষ্য উদ্দেশ্য একই। আঙ্কারা ও তেলআবিব প্রতিশ্রুতি পালনেও অঙ্গিকারবদ্ধ নয়। এ ছাড়া, ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা ছাড়াও সামরিক সহযোগিতা বজায় রয়েছে এবং সম্পর্ক ছিন্ন থাকলেও গোপনে গোপনে ঠিকই অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রয়েছে। এ অবস্থায় তুরস্ক ও ইসরাইলের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে এমনটি বিশ্বাস করা কঠিন। অর্থাৎ তথাকথিত বীরের সুনাম কুড়িয়েছে যে তুরস্ক সেই দেশটির সত্যিকারের চরিত্র বোঝা রাজনৈতিক মহল বা সাধারণ মানুষের পক্ষে মোটেই সহজ কাজ ছিল না।
যাইহোক ফের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তুরস্ক ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের অসংলগ্ন বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এটাকে তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহার করতে চায়। একদিকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিন নেতাদেরকে এবং নিজ দেশের জনগণকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ফলে গাজার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এবং হামাস নেতারা তুরস্কে তৎপরতা চালাতে পারবেন। কিন্তু ইসরাইলি কর্মকর্তারা গাজার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে এ চুক্তির ফলে তাদের লাভের নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
ইসরাইলের রাজনীতিবিদরা এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, তুরস্কে হামাস নেতাদের সামরিক তৎপরতায় কোনো সমস্যা নেই। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়েছে, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও হামাস নেতাদের হত্যার পরিকল্পনায় তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। #
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/২৮