ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান; গাজা শান্তি পরিষদ ইস্যুতে মতবিরোধ
-
ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান
পার্সটুডে – জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে গ্রেপ্তার বৃদ্ধি এবং আল-খলিল (হেবরন) শহরে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযানের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে দখলকৃত ভূখণ্ডে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তথাকথিত গাজা শান্তি পরিষদ গঠিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় গভীর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানের তীব্রতা বেড়েছে এবং গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আল-খালিলে সামরিক অভিযান, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের পুনরায় গ্রেপ্তার, গাজা পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠন এবং ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কড়া অবস্থান—সব মিলিয়ে দখলদার ইসরায়েলে একটি জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পার্সটুডের এই প্রতিবেদনে এ বিষয়েই বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
আল-খলিলে ব্যাপক অভিযান ও গণগ্রেপ্তার
ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ও তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শাবাক দক্ষিণ পশ্চিম তীরের আল-খলিল শহরের জাবাল জাওহার এলাকায় ব্যাপক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযান কয়েক দিন ধরে চলবে এবং এতে শত শত সেনা ও বিশেষ বাহিনী অংশ নিচ্ছে। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির সময় অন্তত ১৩ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেলআবিব দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ঠেকানো এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। তবে বাস্তবে এসব অভিযানের ফলে প্রাত্যহিক হামলা, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের পুনরায় গ্রেপ্তার
ফিলিস্তিনি বন্দি ক্লাব জানিয়েছে, আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতের অভিযানে প্রায় ৮০ জন সাবেক বন্দিকে পুনরায় আটক করা হয়েছে এবং তাদের একটি অংশকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই প্রশাসনিক বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছে।
গাজা শান্তি পরিষদ গঠন ও ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় মতবিরোধ
সিএনএন টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তথাকথিত “গাজা শান্তি পরিষদে” যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই পরিষদে তুরস্ক, কাতার, মিসর ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিচালনা ও পুনর্গঠন তদারকির কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউস এই পরিষদের কাঠামো এবং এর শাসনব্যবস্থা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। তবে তেলআবিব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি এবং কিছু কট্টরপন্থি গোষ্ঠী আঞ্চলিক দেশগুলোর উপস্থিতিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
গাজা শান্তি পরিষদ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কড়া অবস্থান
ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এবং গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক কাঠামোয় তুরস্ক ও কাতারের অন্তর্ভুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ পুনরায় শুরু, হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস, রাফাহ সীমান্ত একতরফাভাবে খুলে দেওয়া এমনকি গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন।#
পার্সটুডে/এসএ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।