ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদিআরবের অন্যায়ের কাছে জাতিসংঘের নতজানু অবস্থান
জাতিসংঘকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করার বিনিময়ে সৌদি সরকার সব সমালোচনা ও নিন্দা উপেক্ষা করে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়েমেনের হাসপাতাল ও বেসামরিক কেন্দ্রে হামলার ব্যাপারে সৌদি আরবের প্রতি জাতিসংঘের ব্যাপক সমালোচনার পর সৌদি সরকার জাতিসংঘকে কোটি কোটি ডলার অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনের হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালানোয় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রিয়াদের তীব্র সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের তথ্য বিভাগের কর্মকর্তা আলেক্সান্দ্রা ওয়ালুচি বলেছেন, আবাসিক এলাকায় সৌদি বিমান হামলায় ৭০টির বেশি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি জঙ্গিবিমান গত শনিবার থেকে বিরামহীনভাবে হামলা চালিয়ে গত কয়েক দিনে প্রচুর সংখ্যক বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। গত সোমবার হাজ্জা প্রদেশের আবাস শহরে একটি হাসপাতাল গুড়িয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত এবং অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও ইয়েমেনের আরেকটি হাসপাতালে সৌদি বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এর আগে গত রবিবার সৌদি আগ্রাসী সেনারা উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশের হেইরান এলাকায় অবস্থিত একটি কোরআন হেফজ খানায় হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় মাদ্রাসার ১৩টি শিশু এবং অন্য ১৮ ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে জাতিসংঘের নির্লিপ্ত ভূমিকায় বেসামরিক মানুষ হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ক্ষেত্রে রিয়াদ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব ইয়েমেন যুদ্ধে এতোবেশি শিশু হত্যা করেছে যে জাতিসংঘ সৌদি সরকারকে শিশুহত্যাকারী হিসেবে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরব পাল্টা জাতিসংঘকে অর্থ সহায়তা দেয়া বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়ায় জাতিসংঘ শেষ পর্যন্ত শিশুহত্যাকারী হিসেবে কালো তালিকা থেকে সৌদি আরবের নাম বাদ দেয়। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সমাজের মতামতকেও উপেক্ষা করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন গত ৬ জুন সৌদি আরব ও জাতিসংঘের সমন্বয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশুহত্যাকারী দেশের তালিকা থেকে সাময়িকভাবে সৌদি আরবের নাম প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু সৌদিআরব ও জাতিসংঘ সম্মিলিতভাবে শিশু হত্যার বিষয়ে তদন্ত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এখন পর্যন্ত সৌদি আরব তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে এবং ইয়েমেনে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতার সুযোগে সৌদি আরব বেপরোয়াভাবে ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে একটি খারাপ প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। আর তা হচ্ছে এ ধরণের হত্যাকাণ্ড শুধু ইয়েমেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৭