হিজবুল্লাহ বিরোধী নিষেধাজ্ঞায় আমেরিকার সঙ্গে যোগ দিল সৌদি আরব
-
হিজবুল্লাহ'র একদল প্রতিরোধ যোদ্ধা
লেবাননের ইসরাইল বিরোধী ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়ায় আমেরিকার সঙ্গে যোগ দিয়েছে সৌদি আরব। হিজবুল্লাহকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগে লেবাননের দুই ব্যবসায়ী ও একটি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রিয়াদ।
বৃহস্পতিবার লেবাননের ব্যবসায়ী মুহাম্মাদ আল-মুখতার ও হাসান জামালুদ্দিনের সম্পদ বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি সৌদি আরবে তাদের ব্যবসা করার সব লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদ। একই দিন মার্কিন সরকার লেবাননের চার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কিছুক্ষণ পর সৌদি আরবও একই পদক্ষেপ নেয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় সৌদি ঘোষিত দুই ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ইউসেফ আয়াদ ও মুহাম্মাদ গালেব হামদার নামের অপর দুই ব্যবসায়ী রয়েছেন। হিজবুল্লাহকে তহবিল যোগানোর অভিযোগে এই চার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
এ ছাড়া, ওয়াশিংটন ও রিয়াদ বাগদাদ-ভিত্তিক কোম্পানি ‘গ্লোবাল ক্লিনার্স’কেও তাদের নিজ নিজ কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। দক্ষিণ লেবাননে এই কোম্পানির একটি দপ্তর রয়েছে। সৌদি আরব ও আমেরিকা দাবি করছে, লেবাননের হিজবুল্লাহকে নানারকম আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে এই কোম্পানি।
গত বছর হোয়াইট হাউজ এমন একটি বিল অনুমোদন করে যাতে হিজুবুল্লাহর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত কোম্পানি ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে।
সিরিয়ায় তৎপর উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের বিরুদ্ধে বর্তমানে যুদ্ধ করছে হিজবুল্লাহ। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন হিজবুল্লাহকে উল্টো সন্ত্রাসবাদের সমর্থন দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করছে।
ইহুদিবাদী ইসলাইলের আগ্রাসন থেকে লেবাননের ভূখণ্ডকে রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮০’র দশকে হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এই আন্দোলনের তেল আবিব বিরোধী ভূমিকার কারণে এর প্রতি ক্ষিপ্ত ওয়াশিংটন। রিয়াদ এতদিন গোপনে হিজবুল্লাহ বিরোধী অবস্থান নিলেও এবার প্রকাশ্যে এই প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২১