ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার সৌদি প্রস্তাব প্রকাশ্যেই নাকচ করেন ইমাম খোমেনী (র)
-
ফাহদ বিন আবদুল আজিজ
আজ হতে ৩৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের এই দিনে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র) কথিত শান্তি-পরিকল্পনার নামে অবৈধ রাষ্ট্র ইহুদিবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার তৎকালীন সৌদি যুবরাজ ফাহদ বিন আবদুল আজিজের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
ইমাম খোমেনী (র) বলেছিলেন: 'ফাহদ ও সাদা’ত-এর পরিকল্পনার মত প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করা আমাদের জন্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক। (মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদা’ত কলঙ্কজনক ক্যাম্প-ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের অবৈধ অস্তিত্ব মেনে নিয়েছিলেন) এ ধরনের পরিকল্পনাগুলোর নিন্দা জানানো আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক দায়িত্ব। কারণ, এইসব পরিকল্পনা মজলুম জনগণের স্বার্থের বিরোধী। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সবচেয়ে বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র হল ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি ( যা হুসনি মুবারক, মুহাম্মাদ মুরসি ও বর্তমানে জেনারেল সিসিও বজায় রেখেছেন) ও ফাহদ পরিকল্পনা। এইসব পরিকল্পনায় ইসরাইলের অবৈধ অস্তিত্বকে বৈধতা ও অপরাধগুলোর দায় থেকেও তাকে রেহাই দেয়া হয়েছে । এইসব পরিকল্পনা (মুসলিম ও আরব বিশ্বে) বিভেদের কারণ এবং ইসরাইলের জন্য পথ খুলে দেয়ার মাধ্যম।'
উল্লেখ্য ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের সহায়তায় হিজাজসহ আরব উপদ্বীপের এক বিশাল অঞ্চলকে তুর্কি খেলাফত থেকে বের করে সৌদি আরব নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির রূপকার ইবনে সৌদ এই রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গোড়াতেই ইসরাইলকে মেনে নেয়া হবে বলে ব্রিটিশ সরকারকে দাসখত দিয়েছিলেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন: 'ব্রিটেন ইহুদিদের ‘ফিলিস্তিন’ দান করলে আমার আপত্তি নেই- ইবনে সৌদ'
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাবেক সৌদি রাজা আবদুল্লাহও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার আবদার জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিনের কিছু ভূমি ইসরাইলের দখল থেকে ফেরত নেয়ার বিনিময়ে। কিন্তু ইসরাইল ও আরব দেশগুলো সৌদি পরিকল্পনায় সাড়া দেয়নি।#
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/২৭